‘মোবাইল বা মানিব্যাগ কিছুই তো ধরে না!’ জিন্সের পকেটে থাকা এই ছোট্ট পকেটের আসল রহস্য জানেন কি?

দৈনন্দিন জীবনে আমরা কমবেশি সকলেই জিন্স পরে থাকি। কিন্তু জিন্সের পকেটের মধ্যে থাকা ওই অতি ক্ষুদ্র পকেটটির দিকে কি কখনও আপনার নজর গিয়েছে? আকারে এতই ছোট যে সেখানে মোবাইল বা মানিব্যাগ তো দূরঅস্ত, ছোটখাটো চাবি রাখাও দায়। তা সত্ত্বেও দশকের পর দশক ধরে সমস্ত জিন্সেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই ছোট পকেটটি তৈরি করা হয়। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই পকেটের উৎপত্তি? এর পিছনে রয়েছে প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এক আকর্ষণীয় ইতিহাস।

পকেট ঘড়ি রাখার জন্যই প্রথম ব্যবহার: এই ছোট পকেটের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৮৭৩ সালে, যখন লেভি স্ট্রস এবং জ্যাকব ডেভিস রিভেট লাগানো ডেনিম ট্রাউজার্সের পেটেন্ট পান। সেই সময়ে খনি শ্রমিক, রেলকর্মী এবং কাউবয়দের মধ্যে চেনে ঝোলানো পকেট ঘড়ি ব্যবহারের প্রবল চল ছিল। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে যাতে বহুমূল্য ঘড়িটি সুরক্ষিত থাকে এবং নষ্ট না হয়ে যায়, তার জন্যই জিন্সে এই আলাদা ও ছোট্ট পকেটটি বানানোর চল শুরু হয়। লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানি আজও আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘ওয়াচ পকেট’ বা ঘড়ি রাখার পকেট হিসেবেই উল্লেখ করে।

নাম বদলেছে বারবার, কাজেও এসেছে পরিবর্তন: সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যবহারের ধরনও বদলেছে। পকেট ঘড়ির ব্যবহার কমে গেলেও জিন্স থেকে এই পকেটটি হারিয়ে যায়নি। বরং সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী এর নাম এবং ব্যবহারেও এসেছে নানা পরিবর্তন। কেউ একে ‘কয়েন পকেট’ বা খুচরো পয়সা রাখার জায়গা বলেছেন, কেউ আবার ‘ম্যাচ পকেট’, ‘টিকিট পকেট’ কিংবা ‘কনডম পকেট’ বলেও ডেকেছেন। প্রথমের দিকে ঘড়িগুলো আকারে বেশ বড় ও ভারী হওয়ায় এই পকেটের মাপও কিছুটা বড় ছিল। পরবর্তীতে হাতঘড়ির প্রচলন বাড়ায় এর আকার ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে।

ফ্যাশনের পরিমিতিবোধ ও ঐতিহ্য: স্কিনি জিন্স থেকে ব্যাগি কিংবা লো-রাইজ থেকে হাই-ওয়েস্ট—গত কয়েক দশকে জিন্সের ফ্যাশনে একাধিক বদল এসেছে। কিন্তু এই ছোট পকেটটি রয়ে গিয়েছে নিজের জায়গাতেই। এটি কেবল কোনো কাজের বস্তু নয়, বরং ডেনিমের ঐতিহ্য এবং এর চেনা নকশার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। পকেটটি সরিয়ে দিলে জিন্সের সামগ্রিক অনুপাত বা লুক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই শতাব্দী প্রাচীন সেই শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাস ও ডেনিমের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাশনের দুনিয়ায় আজও সমানভাবে টিকে রয়েছে জিন্সের এই ‘পঞ্চম পকেট’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *