বিধায়ক-সাংসদদের জন্য কঠোর নির্দেশিকা! টিকিট পাইয়ে দেওয়ার ফাঁদ থেকে সাবধান থাকার বার্তা বিজেপির!

বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নীতিন নবীন সম্প্রতি দলের বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং গণসংযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে চরম সতর্ক থাকার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে নীতিন নবীনের দেওয়া প্রধান ও কড়া নির্দেশিকাগুলি এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
-
অফিসে সময় দেওয়া বাধ্যতামূলক: দলের সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদদের তাঁদের নির্দিষ্ট কার্যালয়ে (সুভাষচন্দ্র বসু কার্যালয়) নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে। প্রতিদিন কত জন সাধারণ মানুষ বা দলীয় কর্মী তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, তার একটি সঠিক হিসাব বা রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
-
ছবি তোলার আগে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’: জনপ্রতিনিধিদের কাছে কেউ ছবি তুলতে এলে তাঁর অতীত বা ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দর্শনার্থী কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
-
দলীয় নীতি অনুধাবন: জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে দল এবং দলের নীতিকে সবার আগে ভালো করে বোঝার ও আত্মস্থ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
টিকিট পাইয়ে দেওয়ার ফাঁদ থেকে সাবধান: আসন্ন পুরনিগম নির্বাচনে কে টিকিট পাবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে কোনো দালালি বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে দলই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কেউ যদি প্রভাব খাটিয়ে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদের সঙ্গে কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে কেবল এইটুকু বলতে বলা হয়েছে— “আসুন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করি।”
সামগ্রికভাবে আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে দলের ভেতর থেকে সমস্ত ফাঁকফোকড় ও বিবাদ দূর করে শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা ফেরাতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই কঠোর বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।