সৎ মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে ও পৈশাচিক অত্যাচার! ৭ মাস পর ওড়িশা থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার অভিযুক্ত

নাবালিকা সৎ মেয়েকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ, বিয়ে এবং লাগাতার শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস ধরে আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা থেকে জালে তোলা হয়েছে ওই অভিযুক্তকে। অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত নির্যাতিতা নাবালিকাকেও।

ঘটনার আড়ালে কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার বাসিন্দা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিবেশী এক মহিলাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। মহিলার আগের পক্ষের এক নাবালিকা কন্যাও তাঁদের সঙ্গেই একই বাড়িতে থাকত। অভিযোগ, কিছুদিন যেতে না যেতেই স্ত্রীর অলক্ষ্যে ওই নাবালিকা মেয়েকে ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এরপর অন্য জায়গায় গিয়ে ওই নাবালিকাকে জোড়পূর্বক বিয়ে করে এবং তার ওপর অকথ্য শারীরিক অত্যাচার ও বারবার ধর্ষণ চালায়।

অভিযোগ ও দীর্ঘ ৭ মাসের তল্লাশি: ঘটনার খবর জানতে পেরে নাবালিকার মা তড়িঘড়ি হাড়োয়া থানায় গিয়ে নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশের গ্রেফতারি এড়াতে রাজ্য ছেড়ে সোজাসুজি ওড়িশায় পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে নিজের আসল পরিচয় গোপন করে আস্তানা তৈরি করে গা ঢাকা দিয়েছিল সে।

হাড়োয়া থানা সূত্রের খবর, অভিযোগ পেতেই পকসো (POCSO) আইন সহ একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামেন আধিকারিকরা। অভিযুক্ত অত্যন্ত চতুর হওয়ায় বারংবার নিজের অবস্থান বদলাচ্ছিল, যা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে টানা নজরদারি, মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন এবং গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ওড়িশায় তার নির্দিষ্ট ডেরার সন্ধান মেলে।

নাটকীয় গ্রেফতার ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ: নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরপরই হাড়োয়া থানার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ওড়িশায় গিয়ে অভিযান চালায়। ওড়িশার ডেরা থেকে অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় নির্যাতিতা নাবালিকাকেও।

উদ্ধার হওয়া নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা এবং আদালতে গোপন জবানবন্দি গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আর অন্য কারও মদত বা সহায়তা ছিল কিনা, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *