রোগীর জীবন নিয়ে মারাত্মক খেলা! লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংক

স্বাস্থ্য পরিষেবার কেন্দ্রস্থলে এ কোন ভয়ঙ্কর অনিয়ম! প্রায় ছয় বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও তা পুনর্নবীকরণ ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক। পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে দীর্ঘদিন লাইসেন্স না মিললেও বিকল্প ভাবনা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালু রাখা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চিকিৎসক মহলে। পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হলেও রাজ্য সরকারের তরফে কঠোর পদক্ষেপের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

৬ বছর ধরে লাইসেন্সহীন ব্লাড ব্যাংক!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালেই মালদা মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাংকের মূল লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর রিনিউয়ালের জন্য আবেদন করা হলেও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় লাইসেন্স দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সামান্য পরিকাঠামো উন্নত করে প্রায় এক বছর আগে ফের আবেদন জানানো হলেও এখনও মেলেনি ছাড়পত্র। অথচ দিব্যি চলছে রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ।

হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট:

  • দৈনিক রক্তের চাহিদা: প্রতিদিন মালদা মেডিক্যালে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়।

  • রোগীর চাপ: মালদা জেলা ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বহু রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন।

  • সংকটজনক রোগী: জেলায় প্রায় দেড় হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী ও একাধিক ব্লাড ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন পড়ে। এই পরিস্থিতিতে লাইসেন্সহীন ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

কী বলছে রাজ্য প্রশাসন?

গত শুক্রবার মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা হয়েছিল। মাত্র চার মাস আগে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতিগুলো মেটানোর কাজ চলছে। মালদা মেডিক্যালের লাইসেন্সের আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে খুব দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে বিগত দিনে মালদা মেডিক্যালে শিশু মৃত্যুর একাধিক ঘটনা এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে বারবার সরগরম হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এবার লাইসেন্স ছাড়াই ব্লাড ব্যাংক পরিচালনার এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসায় হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সচেতন মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *