তিন নদীর জল কমলেও দুর্ভোগ শেষ কোথায়? পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ভূতনির লাগবে আরও ১৫ দিন!

টানা বৃষ্টির দুর্যোগ কেটে রোদ উঠতেই কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মালদার বানভাসি মানুষ। ফুলাহার, কোশি ও গঙ্গা—তিনটি প্রধান নদীরই জলস্তর কমতে শুরু করেছে। মানিকচকের ভূতনি ও রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ধীরে ধীরে জল নামতে শুরু করায় চোখে মুখে আশার আলো বানভাসিদের। তবে জল নামতেই স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের চেনা ছবি। সম্পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানান স্থানীয়রা।
কাদা ঠেলে ধীরে ধীরে দেখা মিলছে রাস্তাঘাটের
বিগত কয়েক দিন ধরে জলে ডুবে থাকা ভূতনি চরে এখন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে মূল রাস্তাঘাট। জল ৪ থেকে ৫ ফুট কমলেও দুর্ভোগ মেটেনি।
-
প্রাণহানি ও সম্পত্তি ক্ষতি: জলের তোড়ে গবাদি পশু ভেসে যাওয়া থেকে শুরু করে কাঁচা বাড়িঘর ভেঙে পড়ার মতো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
-
বিপদ রয়েই গেছে: বাড়িঘর থেকে জল নামতে শুরু করলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং চলাচলের পথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত।
ভূতনির এক বাসিন্দা আক্ষেপের সুরে জানান, “অনেকের গরু-ছাগল জলে ডুবে মারা গিয়েছে। বাড়িঘর জলে ডুবে থাকায় চরম কষ্টে দিন কেটেছে। তবে এখন জল একটু কমছে, আশা করছি দ্রুত অবস্থা স্বাভাবিক হবে।”
পরিদর্শনে বিধায়ক, কাঠগড়ায় তুললেন অতীতকে
বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রতিদিন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ত্রাণ বিলি, নৌকার ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা জোরকদমে চলছে।
রাজনীতি ও বকেয়া উন্নয়ন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, “এখানে বারবার কেন এই বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি কড়া নজরে রাখছেন। তবে আগের সরকারের ভুল ও অবহেলার দায় আজও এই এলাকার মানুষকে বইতে হচ্ছে।”
জল নামলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামত করা এবং যাতায়াতের জন্য অস্থায়ী নৌকার ব্যবস্থা রাখাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।