ইউএস-ইরান যুদ্ধে বিরাট মোড়! আমেরিকা শর্ত মানলেই যুদ্ধবিরতি, না মানলে দীর্ঘ লড়াইয়ের তোড়জোড়

দীর্ঘ কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা অবসানের পথে? মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এবার তৈরি হলো বড় মোড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে ও যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইরান। তবে এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনের সামনে একগুচ্ছ শর্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আমেরিকার কাছে সাতটি শর্ত সম্বলিত একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কাতার এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।
কী রয়েছে তেহরানের শর্তাবলীতে?
ইরানি প্রশাসনের তরফে সাতটি শর্তের সবকটি জনসমক্ষে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রকাশ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে মোহসেন রেজাই তিনটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দাবির কথা স্বীকার করেছেন:
-
সামরিক অভিযান বন্ধ: দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থায়ী শান্তি ফেরাতে সবকটি ফ্রন্ট থেকে সমস্ত ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করতে হবে।
-
বাজেয়াপ্ত অর্থ ফেরানো: বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে রাখা ইরানের সমস্ত ‘ফ্রোজেন ফান্ড’ বা বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ও অর্থ অবমুক্ত করতে হবে।
-
নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলসীমায় ইরানের ওপর যে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
শর্ত না মানলে দীর্ঘ যুদ্ধের হুমকি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ থেকেই ইরান ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে এবং মারাত্মক সংকট দেখা দেয়।
তেহরানের কড়া বার্তা: তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান চায়। কিন্তু আমেরিকা যদি এই শর্তগুলি পূরণ করতে রাজি না হয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
এখন দেখার, কাতারের মাধ্যমে পৌঁছানো ইরানের এই ৭ দফা প্রস্তাবের জবাবে হোয়াইট হাউস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেন।