এএসআইকে ঝাঝরি করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোক্ষম জবাব! পুলিশি অভিযানে গুলির লড়াইয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা অপরাধী

পঞ্জাবের অমৃতসরে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিককে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে নিয়ে এল পঞ্জাব পুলিশ। শুক্রবার রাতে এএসআই (ASI) হরজিৎ সিংকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে সরাসরি যুক্ত ছিল পাকিস্তানের হ্যান্ডলাররা! তবে ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মধ্যরাতের এক রুদ্ধশ্বাস এনকাউন্টারে সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্তকে নিকেশ করল পুলিশ। নিহত অপরাধীর নাম দীপক সিং, সে অমৃতসরের মুলেচক গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে অমৃতসরের ভাগতানওয়ালা শস্য বাজারে কর্তব্যরত এএসআই হরজিৎ সিংকে বাইকে চেপে আসা দুই দুষ্কৃতী পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে বিশাল পুলিশ বাহিনী অভিযানে নেমে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল টাওয়ার ডাম্প বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় আততায়ীদের।
পাক-যোগ ও টাকার প্রলোভন:
তদন্তে নেমে পঞ্জাব পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষেছিল সীমান্ত পারের পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা। প্রচুর টাকা ও মাদক পাচার চক্রে মোটা মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের মগজধোলাই করে এই জাতীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নামানো হয়েছিল।
কীভাবে ঘটল মধ্যরাতের সেই গুলির লড়াই?
অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার হারমানবীর সিং গিল জানিয়েছেন, শনিবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থান্দে রোডে বিশেষ চেক পয়েন্ট বসায় পুলিশ।
১. স্কুটারে চেপে দুই সন্দেহভাজন দুষ্কৃতী চেক পয়েন্টের দিকে এলে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়।
২. নির্দেশ অমান্য করে এক দুষ্কৃতী পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে সোজাসুজি গুলি চালিয়ে দ্বিতীয় নাকা চেকিংয়ের দিকে পালানোর চেষ্টা করে।
৩. পরের চেক পয়েন্টে পৌঁছাতেই ফের পুলিশকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালায় তারা।
৪. আততায়ীদের গুলিবর্ষণের জবাবে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি বর্ষণ করে।
পুলিশের পালটা গুলিতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দীপক সিং। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত অমৃতসরের ইসলামবাদ থানার আওতাধীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দ্বিতীয় অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি:
এনকাউন্টারের সূযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় দ্বিতীয় অভিযুক্ত। তাকে ধরতে সমগ্র এলাকা কর্ডন করে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছ পঞ্জাব পুলিশ। এনকাউন্টার স্থল থেকে একটি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।