ভোটের মুখে ধুন্ধুমার নন্দীগ্রামে! গরাদ পেরিয়ে কীভাবে ভাগ্য পরীক্ষা কংগ্রেস প্রার্থীর? জেনে নিন আইনি সত্য

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। ঠিক এই আবহেই নাটকীয় মোড় নিল পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতি। ২০০৭ সালের একাধিক জামিন অযোগ্য পরোয়ানার ভিত্তিতে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীপুর এলাকা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—জেলে বন্দি অবস্থায় কি মিলন প্রধান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন?

গ্রেফতারির নেপথ্যে কী জানাচ্ছে পুলিশ?

পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং উপনির্বাচনের আগে ঝুলে থাকা পুরনো জামিন অযোগ্য পরোয়ানা নিষ্পত্তির জন্য আয়োজিত বিশেষ অভিযানের অংশ। মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ এবং অস্ত্র আইনের অধীনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গত ১৯ বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছিলেন এবং আদালতে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (NER) জমা ছিল।

অপরদিকে, বিরোধীদের তোলা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক শিবির। তাদের বক্তব্য, আইন আইনের পথেই চলেছে।

জেলে থেকে কি ভোটে লড়া সম্ভব? সাংবিধানিক নিয়ম কী বলে?

ভারতীয় নির্বাচনী আইন ও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কেবল গ্রেফতার বা বিচারাধীন অবস্থায় জেলে থাকলেই কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয় না।

  • সাজা বনাম গ্রেফতার: প্রজনন ও প্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির অন্তত ২ বছর বা তার বেশি মেয়াদের সাজা না হয়, তবে তাঁর নির্বাচনে লড়তে কোনো বাধা নেই। যেহেতু মিলন প্রধান এখনও বিচারাধীন এবং দোষী সাব্যস্ত হননি, তাই তাঁর মনোনয়ন বাতিলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

  • প্রচার প্রক্রিয়া: প্রার্থীর অনুপস্থিতিতেও দলীয় কর্মীরা বাইরে প্রচার চালাতে পারেন। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে জেলের ভেতর থেকে রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য প্রচারের কাজে ব্যবহার করার সুযোগও রয়েছে।

ইতিহাস কী বলছে?

বিচারাধীন অবস্থায় জেলে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জয়ী হওয়ার নজির বাংলা তথা ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন নয়:

  • ১৯৭৭: গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জেলে বন্দি অবস্থায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন সন্তোষ রানা।

  • ১৯৯৬: মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে কারাবন্দি অবস্থায় কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

  • ২০১৬: কামারহাটি কেন্দ্র থেকে জেলে থাকাকালীন ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মদন মিত্র।

  • ২০২৩: পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন গ্রেফতার হলেও কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন আনারুল হক (বিপ্লব)।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আগামী ৯ অক্টোবর ভোটগণনা। এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মিলন প্রধানের গ্রেফতারি ভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *