“হাঁড়িকাঠে গলা রাখলাম কেন?” দুই কেন্দ্রে ‘মুখ পুড়তেই’ বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ, ফাঁস করলেন দলের গোপন সত্য!

“হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছিল ওরা, আমরা গলা বাড়ালাম!” দুই কেন্দ্রে প্রার্থী-নাটকে ক্ষুব্ধ কুণাল ঘোষ

উপনির্বাচনের মুখে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী নিয়ে চরম অস্বস্তি ও বিড়ম্বনায় পড়েছে দল। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। দলের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অন্দরের ‘আলোচনার অভাব’ নিয়ে সোচ্চার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলেও, পরবর্তীতে তা মুছে ফেলেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছেন তিনি।

“আগে আলোচনা হলে নামই দিতাম না”

নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আচমকা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় জোর রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, “সঞ্চিতা প্রায় দুই মাস আগে নিজেই যোগাযোগ করে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিল। আমি বিষয়টি জানতাম, কিন্তু নেত্রীর কাছে তাঁর নাম সুপারিশ করিনি। কারণ আমার মনে বেশ কিছু দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব ছিল।”

তিনি আরও জানান, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আগে দলে যদি কোনো আলোচনা হতো, তবে তিনি শুরুতেই বারণ করতেন। কুণালের সাফ কথা, “নন্দীগ্রামে আমাদের কিছু বিজ্ঞ নেতা সংগঠনকে লাটে তুলে দিয়েছেন। কর্মীরা কষ্টে আছেন, আগে ঘর সাজাতে সময় লাগবে।”

“শুধু বিজেপিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই”

সোশ্যাল মিডিয়ার মুছে ফেলা পোস্টে কুণাল লিখেছেন, “দল প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে, কোনো আলোচনা হয়নি। এখন যেভাবে দুই কেন্দ্রেই মুখ পুড়ল, তার দায়িত্ব আমাদের সকলকেই নিতে হবে। শুধু শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপিকে দোষ দিলে হবে না। ওরা হাঁড়িকাঠ পেতে রেখেছিল, আর আমরা গিয়ে গলাটা রেখে এলাম! কেন আমরা আগের থেকে পরিস্থিতি অনুধাবন করলাম না?”

পরবর্তীতে পোস্ট মুছে ফেলা নিয়ে কুণাল জানান, সকালে প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর শুনেই তিনি ক্ষোভের মুখে ওই বক্তব্য পোস্ট করেছিলেন।

রেজিনগরেও টানটান নাটক

অন্যদিকে রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে নিয়েও সারাদিন টানটান নাটক চলেছে। সকালে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বললেও বিকেলে ইউ-টার্ন নিয়ে জানান তিনি নির্বাচনে লড়বেন।

দুই কেন্দ্রেই এমন এলোমেলো পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ কুণাল বিরোধী দলের ‘চক্রান্ত’ ও ‘সন্ত্রাস’কে দায়ী করার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার অভাবকেই মূলত কাঠগড়ায় তুলেছেন। তবে দলের অন্দরে এই টানাপোড়েন চললেও সাধারণ মানুষের সমর্থন যে এখনও মমতার পাশেই রয়েছে, সে কথা জোর দিয়েই জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *