জলের গুণমান টিকিয়ে রাখতে পাহাড়ের অলপথের কারিগর এরা! বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে কেন এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত?

কুয়াশায় ঘেরা দার্জিলিং এবং কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি উপত্যকায় রচিত হতে চলেছে এক অনন্য আন্তর্জাতিক মাইলফলক। প্রায় ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন বছর আগে জুরাসিক যুগে, অর্থাৎ ডাইনোসরদের রাজত্বের সময় থেকেই পৃথিবীতে টিকে থাকা প্রাগৈতিহাসিক ও সংবেদনশীল উভচর প্রাণী ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার’ বা হিমালয়ান নিউটকে পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা দিতে এবার তৈরি হতে চলেছে বিশ্বের প্রথম ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি’।

রাজ্য বন দফতর, জু অথরিটি এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে এই স্যাংচুয়ারি গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কার্শিয়াং বন বিভাগের বিস্তৃত প্রস্তাব ও গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই যুগান্তকারী সংরক্ষণের মূল কাণ্ডারী হিসেবে কাজ করছেন ২০২০ ব্যাচের আইএফএস অফিসার তথা কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে। স্থানীয় মানুষের কাছে ‘পানি টিকটিকি’ বা ‘পানি কুকুর’ নামে পরিচিত এই বিরল প্রাণীটি কেবল দার্জিলিং ও কার্শিয়াং পাহাড়েই পাওয়া যায় এবং এটি পরিবেশের সুস্বাস্থ্য ও পাহাড়ি ঝরনার জল সংরক্ষণের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সূচক।

অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, পর্যটন এবং প্লাস্টিক দূষণের জেরে এই জীবন্ত জীবাশ্মের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত স্যাংচুয়ারির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কার্শিয়াংয়ের নামথিং পোখরি, পোখরিয়াটার এবং পঞ্চ পোখরিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১২ থেকে ১৫ একর এলাকাকে কঠোর আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। শত মিলিয়ন বছরের প্রাচীন এই অমূল্য প্রাণীকে বাঁচানোর এই প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে পাহাড়ি জলাভূমি সংরক্ষণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *