১৪০০ গিগাটন বরফ গায়েব! বিশ্বজুড়ে জলের এমন খরা গত তিন দশকে দেখেনি পৃথিবী, সামনে আসছে ভয়ংকর এলনিনো

পৃথিবীর জলচক্র ক্রমশ তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। কখনও জলের স্তর একেবারে তলানিতে এসে ঠেকছে, আবার কখনও বা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ডেকে আনছে বিপর্যয়। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র। সেখানে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, পৃথিবীর জলভাণ্ডার বা যাকে মাটির তলার ‘সেভিংস অ্যাকাউন্ট’ বলা চলে, তা অত্যন্ত দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, খুব শীঘ্রই বিশ্ব এক সম্পূর্ণ অচেনা ও দীর্ঘমেয়াদী এলনিনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতটি এমন বছর পাওয়া গিয়েছে যেখানে নদীর জলপ্রবাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত তিন দশকের মধ্যে ২০২৫ সালে নদীর জল সবচেয়ে বেশি শুকিয়ে গিয়েছে এবং জলের প্রবাহ প্রায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে লাগাতার হিমবাহ ক্ষয়কে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর যেভাবে হিমবাহের ঘনত্ব কমেছে, তাতে গত তিন বছরে প্রায় ১৪০০ গিগাটন বরফ বা জলের অপচয় হয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, অলিম্পিকের সাঁতার প্রতিযোগিতার প্রায় ৫৬০ মিলিয়ন সুইমিং পুল ভরানোর মতো জল নষ্ট হয়েছে।

জলবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ গলার তাৎক্ষণিক ফল হলো আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফল হলো ভয়ংকর জলের ঘাটতি। গত পাঁচ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তার প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটেছে এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশে। গঙ্গা ও সিন্ধু নদের উৎস এলাকা থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভূগর্ভস্থ জলস্তরে যেভাবে ধারাবাহিক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, তাতে বিশ্বজুড়ে আগামী দিনে তীব্র জলসংকট ও খরা-বন্যার চরম পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *