এআইয়ের হাতে টেলিকম নেটওয়ার্ক ছাড়লেই কি বিপদ? TRAI প্রধানের সতর্কবার্তায় চাঞ্চল্য!

টেলিকম নেটওয়ার্ক পরিচালনা থেকে শুরু করে অনলাইন জালিয়াতি ও সাইবার হুমকি শনাক্তকরণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এক বিরাট বিপ্লব ঘটাচ্ছে। তবে টেলিকম সেক্টরে এআই-এর ব্যবহার যত দ্রুত বাড়বে, ঠিক ততটাই জরুরি হয়ে উঠবে যথাযথ সুরক্ষা বলয় বা সেফগার্ডস, মানুষের নজরদারি এবং প্রয়োজনে অটোমেটেড সিদ্ধান্তে মানুষের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ। সোমবার দেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই (TRAI)-এর চেয়ারম্যান অনিল কুমার লাহোটি এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বার্তা দিয়েছেন।
দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের ওপর জোর
ইন্ডাস্ট্রি বডি COAI আয়োজিত ‘Powering India’s Intelligent Connectivity Future’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাহোটি জানান যে, কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে এআই-এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেলিকম অপারেটর এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো এআই সিস্টেম পুরোদমে চালুর আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন (Risk Assessment), ডিসিশন লগ সংরক্ষণ এবং মডেল টেস্টিংয়ের মতো বিষয়গুলি সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত আবশ্যক।
বিশেষ করে হাই-ইমপ্যাক্ট বা অত্যন্ত সংবেদনশীল সিস্টেমগুলির ক্ষেত্রে মানুষের তদারকি বা হিউম্যান ওভারসাইট বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট কথা, অটোমেশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গ্রাহক পরিষেবার মান উন্নত করা, কিন্তু কোনো ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা যেন কোনোভাবেই অস্পষ্ট হয়ে না যায়।
অটোনোমাস নেটওয়ার্কের সুবিধা বনাম ঝুঁকি
এআই ইতিমধ্যেই টেলিকম অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ফোরকাস্টিং উন্নত করতে, রিসোর্স অপ্টিমাইজ করতে, দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করতে এবং গ্রাহকদের চাহিদার পরিবর্তনে ঝটপট সাড়া দিতে দারুণভাবে সাহায্য করছে। এর ফলে চিরাচরিত অটোমেশনের গণ্ডি পেরিয়ে টেলিকম ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেক বেশি অটোনোমাস নেটওয়ার্কের দিকে এগিয়ে চলেছে।
তবে নেটওয়ার্ক যত বেশি এআই-নির্ভর হয়ে উঠবে, কোনো ভুল অটোমেটেড সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবও ততটাই বেশি হবে। তাই কোনো এআই-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হলে তা দ্রুত ওভাররাইড বা বাতিল করা যাবে কি না এবং এআই சார்ந்த কোনো ফিচার আকস্মিকভাবে কাজ বন্ধ করে দিলে বিকল্প উপায়ে পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব কি না, সেই বিষয়টিও আগে থেকেই ভেবে রাখা দরকার। ট্রাই প্রধানের মতে, অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা যেন শেষ পর্যন্ত নেটওয়ার্কের নতুন কোনো ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট অফ ফেইলিওর’ বা বড় দুর্বলতা তৈরি না করে।
অনলাইন জালিয়াতি ও স্ক্যাম মোকাবিলায় এআই-এর দ্বিমুখী ভূমিকা
সাইবার অপরাধ ও স্ক্যাম রোধের ক্ষেত্রে এআই-এর ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লাহোটি এর দ্বিমুখী চরিত্রের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সন্দেহজনক প্যাটার্ন, অনিয়ম ও বিপদ চিহ্নিত করে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে পারে এআই। কিন্তু একই প্রযুক্তি যদি ভুল হাতে ব্যবহৃত হয়, তবে তা জালিয়াতির মতো ক্ষতিকর কার্যকলাপকে আরও বেশি উন্নত ও জটিল করে তুলতে পারে।
যদি কোনো বৈধ গ্রাহক, এন্টারপ্রাইজ বা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এআই ভুলবশত ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করে বসে, তবে তার জেরে পরিষেবা ব্যাহত হওয়া, সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়া কিংবা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে সঠিক থ্রেশহোল্ড, কড়া সুরক্ষা এবং সুনির্দিষ্ট রিভিউ মেকানিজম থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে ট্রাই।