১০ সেকেন্ডের একটি ছবি বানাতেই খরচ হচ্ছে ৮৭ লক্ষ লিটার পানীয় জল! চ্যাটজিপিটির নয়া ট্রেন্ডে কপালে চিন্তার ভাঁজ বিজ্ঞানীদের

বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডের ঝড় তুলেছে ‘১৯৮০-এর নস্ট্যালজিয়া’। এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-র সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সিংহভাগই নিজেদের পুরনো দিনের স্টাইলের ছবি তৈরি করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন। ছবি তৈরি করা এবং তা আপলোড করার পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়ংকর ও উদ্বেগজনক সত্য। যা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
কীভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে এই এআই ট্রেন্ড?
এর আগে ২০২৫ সালে ‘Ghibli’ নামের একটি ফটো ট্রেন্ড সোশ্যালের দেওয়ালে ঝড় তুলেছিল, যার মূল কারিগর ছিল এই চ্যাটজিপিটিই। সেই সময় পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সংস্থার সিইও স্যাম অল্টম্যান স্বয়ং এই ধরনের ট্রেন্ড থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কারণ, যে কোনও এআই প্রম্পট প্রসেস করতে ডেটা সেন্টারগুলিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জলের প্রয়োজন হয়।
কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এবং হাগিং ফেস-এর তথ্য অনুযায়ী, একটিমাত্র এআই ইমেজ তৈরি করতে প্রায় ০.০১ থেকে ০.২৯ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA)-র রিপোর্ট বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারগুলির বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। শুধু বিদ্যুৎ নয়, এর পাশাপাশি ডেটা সেন্টারগুলির কুলিং সিস্টেম ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানীয় জলেরও প্রয়োজন হয়।
দৈনিক ৮৭ লক্ষ লিটার পানীয় জলের অপচয়!
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে মাত্র ২০ থেকে ৫০টি প্রশ্নোত্তরের জন্য ৫০০ মিলিলিটার জলের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি স্ট্যান্ডার্ড রেজলিউশনের ছবি তৈরি করতে প্রায় ২৯ মিলিলিটার জল খরচ হয়। এই পরিমাণ জল খুব সামান্য মনে হলেও, বিশ্বজুড়ে যখন প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) এআই ইমেজ তৈরি হচ্ছে, তখন মোট জলের ব্যবহার গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৭ লক্ষ লিটার বা ৮,৭০০,০০০,০০ লিটার পানীয় জলে!
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেটা সেন্টারগুলির সার্ভার ঠান্ডা রাখতে সাধারণ বা অপবিত্র জল ব্যবহার করা হয় না, পুরোটাই খরচ হয় বিশুদ্ধ পানীয় জল। ফলে এক দিকে লাগামছাড়া বিদ্যুৎ খরচ এবং অন্য দিকে কোটি কোটি লিটার পানীয় জলের অপচয়—সব মিলিয়ে আমাদের একটুখানি বিনোদন প্রকৃতির উপর এক বিরাট বিপর্যয় ডেকে আনছে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই ভেবে দেখার সময় চলে এসেছে।