“প্রেমিকের মেসে ডেকে গলা কেটে খুন!”-নার্সিং পড়ুয়াকে নৃশংসভাবে শেষ করার নেপথ্যে কী রহস্য?

পুরুলিয়ার এক নার্সিং ছাত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুনের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। গত শনিবার মেসের ভেতরে এই হত্যাকাণ্ডের আগে ওই তরুণীকে মেসের সামনে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতে দেখেছিলেন এক স্থানীয় বৃদ্ধা। তদন্তকারী অফিসারদের কাছে সেই বৃদ্ধার দেওয়া বয়ানকে এখন অন্যতম প্রধান সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার অভিযুক্ত প্রেমিক অমিত মাহাতোকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল বলরামপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, নিহত তরুণী যে মেসে পড়াশোনা করতেন, ঘটনার ঠিক আগে তার সামনেই তাঁকে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতে দেখেছিলেন জটিলা মাহাতো নামের এক স্থানীয় বৃদ্ধা। দীর্ঘক্ষণ তরুণীকে ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখে কৌতূহলী হয়ে বৃদ্ধা নিজেই তাঁর কাছে এগিয়ে যান এবং জানতে চান তিনি কোথায় যাবেন। জবাবে তরুণী তাঁকে টিউশন যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি ওই বৃদ্ধার। পাশাপাশি, কথোপকথনের সময় তরুণী চরম কোনো মানসিক দুশ্চিন্তা বা চাপের মধ্যে ছিলেন বলেও পুলিশের কাছে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তদন্তকারীরা এই বয়ানকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন। ঠিক কার সঙ্গে এবং কোন বিষয়ে ওই তরুণী ফোনে কথা বলছিলেন, তা বের করতে তাঁর কল রেকর্ড ও মোবাইল ফোনটি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ ও ফরেন্সিক তদন্ত

এদিন কড়া নিরাপত্তায় মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে অভিযুক্ত অমিত মাহাতোকে ওই মেসে নিয়ে যান বলরামপুর থানার তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই রক্ত হিম করা ওই হত্যাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণ করা হয়। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং অভিযুক্তকে দফায় দফায় জেরা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত তরুণী নার্সিং পড়ার পাশাপাশি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত শনিবার অভিযুক্ত অমিত তাঁকে নিজের মেসে ডেকে পাঠান। এরপর পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সেখানে তাঁদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বচসা বা ক্ষোভের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়।

খুনের পর অপরাধ ঢাকতে রাত দশটা নাগাদ ওই তরুণীর রক্তাক্ত দেহ বস্তাবন্দি করে বাইকে চাপিয়ে অন্যত্র ফেলার পরিকল্পনা করেছিল অমিত। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় নাকা চেকিংয়ের সময় বাইকটি আটকানো হয় এবং বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে নার্সিং ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধৃত অমিত এবং মৃত তরুণী—উভয়েই পুরুলিয়ার বাগমুণ্ডির বাসিন্দা। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে এখন সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *