ইলিশের মাথা দিয়ে এভাবে কচুশাক বানালে গলার চিন্তা দূর, স্বাদ হবে অমৃত, জানুন পদ্ধতি

বাঙাল বাড়ির রান্নার সুখ্যাতি বরাবরই চারদিকে। বিশেষ করে কচু জাতীয় বিভিন্ন পদ রান্নায় তাদের জুড়ি মেলা ভার। গরম ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুশাকের জুড়ি মেলা ভার। সুস্বাদু এই পদটি রান্না করাও খুব একটা কঠিন নয়। ইলিশের মরসুমে এই ট্র্যাডিশনাল পদটি রান্না করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন পরিবারের সকলকে। জেনে নিন এর সহজ প্রণালী।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
-
কচু শাক: ১ আঁটি
-
ইলিশ মাছের মাথা: ১টি
-
সর্ষের তেল: ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ
-
ফোড়নের জন্য: শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা ও কালো জিরে
-
কাঁচা লঙ্কা: ৫ থেকে ৬টি
-
গুঁড়ো মশলা: হলুদ গুঁড়ো (১ চামচ), জিরে গুঁড়ো (১ চামচ) ও লঙ্কা গুঁড়ো (আধ চা চামচ)
-
লেবুর রস: ১ চামচ
-
স্বাদমতো নুন ও চিনি
তৈরির সহজ পদ্ধতি
১. কচু শাক সেদ্ধ: সবার প্রথমে কচু শাক ভালো করে কেটে নিন। এরপর নুন দিয়ে সেটি ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। শাক নরম হয়ে গেলে জল ভালো করে ছেঁকে ফেলে দিয়ে শাকটি ভালোভাবে চটকে মেখে রাখুন।
২. মাথা ভাজা: অন্যদিকে, ইলিশ মাছের মাথাটি ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর নুন ও হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে মাথাটি লালচে করে ভেজে তুলে নিন। ভাজা হয়ে গেলে মাথাটি হালকা ভেঙে রাখুন।
৩. মশলা কষানো: ওই কড়াইয়ের তেলেই শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা ও কালো জিরে ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং অল্প জলে গুলে রাখা সমস্ত গুঁড়ো মশলা কড়াইয়ে দিয়ে দিন। মশলা থেকে তেল ছাড় পর্যন্ত ভালোভাবে কষাতে থাকুন।
৪. রান্না সম্পন্ন করা: মশলা কষা হয়ে গেলে সেদ্ধ করে রাখা কচু শাক এবং ভেজে রাখা ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে দিন। এবার মাঝারি আঁচে অনবরত নাড়তে থাকুন যাতে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে যায় এবং শাক কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায়।
৫. চূড়ান্ত পর্যায়: শাকের জল শুকিয়ে এলে স্বাদমতো নুন ও সামান্য চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। রান্নাটি একদম মাখোমাখো হয়ে গেলে নামানোর আগে উপর থেকে এক চামচ লেবুর রস ছড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এটি কচু শাক খাওয়ার সময় গলা চুলকানোর সম্ভাবনা একেবারে দূর করে দেবে।
ব্যাস, গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করার জন্য একদম প্রস্তুত সুস্বাদু ইলিশ মাথা দিয়ে কচুশাক!