কর্পোরেশনে চরম অরাজকতা! তারাতলাকাণ্ডে ধৃতের মুক্তির দাবিতে পুর ইঞ্জিনিয়ারদের অনড় আন্দোলনে শিকেয় নাগরিক পরিষেবা

তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় ধৃত পুর ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল শেখকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে কলকাতা পুরনিগমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়াররা। মঙ্গলবার এই বিক্ষোভ তৃতীয় দিনে গড়াল। পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের কার্যালয়ে ইঞ্জিনিয়াররা ভিড় জমিয়ে বিক্ষোভ দেখালেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাঁরা এড়িয়ে যান এবং নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করেন। ধৃত ইঞ্জিনিয়ার যতক্ষণ না মুক্তি পাচ্ছেন, ততদিন তাঁরা কাজে যোগ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
পুরভবনে অচলাবস্থা ও পরিষেবায় টান
টানা তিন দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের জেরে বিল্ডিং, নিকাশি, জঞ্জাল এবং বাজার বিভাগের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ থমকে গেছে। আন্দোলনকারীরা বিল্ডিং বিভাগের ডিজি উজ্জ্বল সরকারের পদত্যাগেরও দাবি তুলেছেন। যদিও পানীয় জল সরবরাহ এবং নিকাশি পাম্পিং স্টেশনের মতো অতি জরুরি কিছু বিভাগে আংশিক কাজ চালু রাখা হয়েছে যাতে নাগরিক পরিষেবা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে না পড়ে, তবুও সার্বিকভাবে শহরবাসীর ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি সহায়তা নিয়ে জল্পনা
পুরনিগম সূত্রে খবর, এই ঘটনায় কর্পোরেশনের তরফে ধৃত ইঞ্জিনিয়ারকে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না, বরং আন্দোলনকারী ইঞ্জিনিয়াররা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়েই জামিনের জন্য আইনজীবী ঠিক করেছেন। এদিকে সোমবার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় এবং টানা তিন দিন ধরে এই কর্মবিরতি চললেও প্রশাসক স্তরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি, যা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেই জল্পনা শুরু হয়েছে।