উপকারের বদলে বড় বিপদ ডেকে আনছে না তো? কোন মানুষদের মেথি দানা খাওয়া একেবারেই উচিত নয়?

রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত একটি মশলা হলো মেথি দানা। হজমশক্তি বাড়ানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে বহু মানুষই প্রতিদিন সকালে ভিজিয়ে রাখা মেথি দানা বা এর জল খেয়ে থাকেন। মেথিতে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ভিটামিন সি-এর মতো পুষ্টি উপাদান ভরপুর পরিমাণে থাকলেও, প্রতিদিন নিয়ম করে মেথি দানা কিংবা এর সাপ্লিমেন্ট খাওয়া সকলের জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়।
কাদের জন্য মেথি খাওয়া বিপজ্জনক?
খাবারে অল্প পরিমাণে মেথি ব্যবহার করা আর নিয়মিত ঘন মাত্রায় মেথি বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিস্থিতিতে মেথি খাওয়া উল্টে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে:
-
গর্ভাবস্থায় চরম সতর্কতা: গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি পরিমাণে মেথি বা মেথির সাপ্লিমেন্ট খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। কারণ মেথি জরায়ুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও এটি গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
-
অস্ত্রোপচারের আগে বর্জনীয়: সামনে কোনও বড় সার্জারি বা অপারেশন থাকলে নিয়মিত মেথি খাওয়া বন্ধ করা উচিত এবং সে বিষয়ে চিকিৎসককে জানানো আবশ্যক। মেথি রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
-
রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে বিপদ: যাঁরা ওয়ারফারিন বা অ্যাসিট্রোমের মতো রক্ত পাতলা করার ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন, তাঁদের নিজ দায়িত্বে মেথির ঘন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া মারাত্মক হতে পারে। ওষুধের সঙ্গে মেথির প্রতিক্রিয়ায় রক্তপাতের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
-
ডায়াবেটিসের ওষুধ ও মেথি: মেথি নিজে থেকেই রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে ইনসুলিন বা গ্লিমেপিরাইডের মতো ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে মেথি খেলে রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার (Hypoglycemia) ঝুঁকি থাকে।
-
থাইরয়েডের ওষুধে ব্যবধান প্রয়োজন: থাইরয়েডের সমস্যায় যাঁরা ওষুধ খান, তাঁদেরও মেথি খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। মেথির ফাইবার ও অন্যান্য উপাদান ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই থাইরয়েডের ওষুধ ও মেথি খাওয়ার মাঝে অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যবধান রাখা উচিত।
-
সংবেদনশীল পেট: যাঁদের হজমশক্তি খুব দুর্বল বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS)-এর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত মেথি খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা তীব্র অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রাকৃতিক উপাদান মানেই তা সকলের জন্য নিরাপদ— এমন ধারণা পোষণ করা ভুল। তাই নিজের শারীরিক পরিস্থিতি বুঝে তবেই মেথি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।