পোখরণে কংগ্রেসের ‘পরমাণু বোমা’! টেক্কা দিয়েও কি শেষ পর্যন্ত হাতছাড়া হবে বিজেপির পদ্মফুল?

পরমাণু পরীক্ষার সুবাদে বিশ্বজুড়ে পরিচিত রাজস্থানের মরুশহর পোখরণে এবার রাজনৈতিক ময়দানে এক বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে গেল। সদ্য সমাপ্ত পোখরণ পৌরসভা নির্বাচনের যে ফলাফল সামনে এসেছে, তাতে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছে কংগ্রেস। ম্যাজিক ফিগার থেকে সামান্য দূরে আটকে গেলেও এই পুরবোর্ডের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা ও ত্রিমুখী লড়াই।

নির্বাচনী সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
গত ১১ সেপ্টেম্বর পোখরণ পৌরসভা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৪ সেপ্টেম্বর এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মোট ২৫টি ওয়ার্ডের এই পৌরসভায় কংগ্রেস জিতেছে ১২টি আসনে, অন্যদিকে বিজেপি ১১টি আসন পেয়ে ১১টিতেই আটকে গেছে। এছাড়া বাকি ২টি ওয়ার্ডে জয়লাভ করেছেন নির্দল প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস তিনটি আসনে নির্দল প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছিল, যার মধ্যে দুজন জয়ী হয়েছেন। ফলে সেই দুই নির্দলের সমর্থনের দাবি করে কংগ্রেস শিবির সরকার গড়ার জোরালো দাবি তুলছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার হুংকার দেওয়া বিজেপি এককভাবে সমস্ত আসনে লড়েও মাত্র ১১টি ওয়ার্ডে সীমিত থাকায় বেশ কোণঠাসা। তবে গেরুয়া শিবিরের আশা, কংগ্রেস শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ঠিকই চেয়ারম্যান পদ দখল করবে। বর্তমানে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কংগ্রেসের তরফে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে কল্পনা রঙ্গা এবং মধুবালা—উভয়ের নামই জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।

দুই প্রভাবশালী ধর্মগুরুর প্রেস্টিজ ফাইট:
পোখরণের এই পৌর নির্বাচন কেবল সাধারণ কোনো প্রশাসনিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি দুই হেভিওয়েট ধর্মীয় নেতার রাজনৈতিক প্রেস্টিজ ফাইটে রূপ নিয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষে লড়াইয়ের পুরোভাগে রয়েছেন সিন্ধি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু তথা রাজ্যের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী শালে মোহাম্মদ। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে ময়দানে রয়েছেন পোখরণের বর্তমান বিধায়ক তথা তারাतरा মঠের মহন্ত প্রতাপ পুরী। কার অনুগামীদের পাল্লা ভারী হবে, তা নিয়ে এখন গোটা অঞ্চলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পোখরণের সাধারণ মানুষ বরাবরই ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে পছন্দ করে। ইতিপূর্বেও দেখা গেছে, বিধানসভায় বিধায়ক এক দলের হলে স্থানীয় সরকার অন্য দলের হাতে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পরেই পরিষ্কার হবে যে, পোখরণের এই ঐতিহ্যবাহী ভারসাম্য বজায় থাকে, নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *