বদলে গেল এনটিএ-র ঠিকানা! ওখলা ছেড়ে কোথায় সরছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির অফিস?

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) বা এনটিএ-র কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝেই সামনে এল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় আপডেট। পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সুনিশ্চিত করতে এবার তাদের অফিস বা দপ্তরের ঠিকানা সম্পূর্ণ বদলে ফেলল এনটিএ। এতদিন ওখলা থেকে সমস্ত কাজকর্ম পরিচালিত হলেও, এবার থেকে আর সেখানে থাকছে না এনটিএ-র মূল কার্যালয়। মূলত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নজরদারি বজায় রাখতেই এই বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। নতুন এই দপ্তরটি এনটিএ-র গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজ পরিচালনার জন্য এক সুরক্ষিত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
ওখলা থেকে মিंटो রোডে শিফট হলো অফিস:
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির অফিসটি ওখলা থেকে সরিয়ে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয়েছে নতুন দিল্লির মিंटो রোড এলাকায়। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নতুন দিল্লির মিंटो রোডে অবস্থিত ভারত সরকারের প্রেস ভবনের পঞ্চম তলায় স্থানান্তরিত হয়েছে এনটিএ-র নতুন এবং সুরক্ষিত অফিস।
ঠিক কেন অফিস বদল করতে হলো?
বিশেষ সূত্রে খবর, শিক্ষা মন্ত্রকের স্পষ্ট নির্দেশ মেনেই তড়িঘড়ি এই অফিস বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার জন্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। মূলত এনটিএ-র পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় কাজকর্মগুলি যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পরিবর্তন।
পেপার লিক ও এনটিএ-র আমূল বদল:
দেশজুড়ে আলোচিত ‘নিট’ (NEET) পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর থেকেই এনটিএ-র পরিকাঠামোয় বড়সড় সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই সমস্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর স্থানে কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নতুন এই দপ্তরে নিরাপত্তার মান আরও বাড়াতে সিআইএসএফ (CISF)-এর জওয়ানদের মোতায়েন করা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া এনটিএ তাদের গোপনীয় কাজকর্ম বা কনোপস (CONOPS)-এর কাঠামোতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনছে, যেখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজগুলির জন্য নির্দিষ্ট আলাদা ঘর এবং শুধুমাত্র বিশেষ ও অনুমোদিত কর্মীদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা:
সংস্কারের এই নতুন পর্যায়ে এনটিএ তাদের গোপনীয় কাজের জন্য ‘এয়ার-গ্যাপড’ কম্পিউটার সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যেগুলি কোনোভাবেই বাইরের ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। এর ফলে কোনো গোপন তথ্যে অনধিকার প্রবেশের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। শুধু তাই নয়, নতুন এই দপ্তরে স্পর্শকাতর ও प्रतिबंधित ক্ষেত্রগুলিতে প্রবেশ করার আগে মোবাইল ফোন সহ সমস্ত ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পরীক্ষার গোপনীয়তা ও সুরক্ষা অটুট রাখতে কর্মরত কর্মীদেরও এই কড়া নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।