“ওর অপরাধ ছিল…” চন্দ্রে নৃশংস খুনের নেপথ্যে গোপন চক্রান্ত? বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী

বিধানসভা উপনির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক মঞ্চে শুরু হলো চরম তরজা। নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর নিহত নিজের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের স্মরণে এক তীব্র আবেগঘন ও বিস্ফোরক বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথের নাম চূড়ান্ত করা হয়। আর সেই হাইভোল্টেজ মনোনয়নের আগে আয়োজিত সংকল্প সভা থেকেই বিস্ফোরক সব দাবি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

‘চন্দ্রনাথকে অকালে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত’:

সংকল্প সভা থেকে গর্জে উঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চন্দ্রকে যেভাবে চরম নৃশংসতায় খুন করা হয়েছিল, আমি মনে করি তার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল—সে তৎকালীন বিরোধী দলনেতাকে সাহায্য করত। তৎকালীন শাসক ও তাদের দুষ্কৃতীদের সেই আক্রোশের শিকার হয়েই অকালে প্রাণ দিতে হলো চন্দ্রকে।” সেই সঙ্গেই চন্দ্রনাথের খুনি ও এর পেছনে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

ঠিক কী ঘটেছিল চন্দ্রনাথের সঙ্গে?

বিধানসভা নির্বাচনের বিরাট জয়ের আমেজের মাঝেই গত ৬ মে রাতে নৃশংস এক অপরাধ ঘটেছিল। ওই দিন গভীর রাতে দলীয় কর্মসূচি সেরে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের ছক কষা হামলার শিকার হন শুভেন্দুর অতি বিশ্বস্ত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, আততায়ীরা দীর্ঘ সময় ধরে সতর্কভাবে তাঁর গাড়ি অনুসরণ করছিল এবং ফাঁকা জায়গায় গাড়িটির গতি কমাতেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে লক্ষ করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালেও চন্দ্রনাথকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাজ্য পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল এই খুনের তদন্ত চালাচ্ছে, যার ওপর রাজ্য প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে।

নন্দীগ্রামবাসীর প্রতি বিশেষ অঙ্গীকার ও সংখ্যালঘুদের বার্তা:

এদিনের সভা থেকে নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রামের জনতাকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এতদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যেসব বিজেপি কর্মী মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন, তাঁদের সমস্ত মামলা তোলা এবং প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব আমার।”

পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশ্যেও এক বিশেষ বার্তা দেন তিনি। বলেন, “আমি জানি রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে আপনারা হয়তো সরাসরি আমায় বা বিজেপিকে ভোট দেন না। কিন্তু আজ আপনাদের সামনে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের পরীক্ষা রয়েছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থেকে কাজে ভাগ নেবেন, নাকি নেবেন না—তা স্থির করার সময় এসেছে। বাকি জায়গায় জয় আমাদের সুনিশ্চিত।”

চন্দ্রনাথ রথের মায়ের প্রার্থী পদ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আবেগপ্রবণ বক্তব্যের পর নন্দীগ্রামের রাজপথ যে উপনির্বাচনের লড়াইয়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *