“১০২ মিনিটের মহানাটক!”-৯০ মিনিটে গোল দিয়েও পার পেল না মোহনবাগান, আটকে দিল ইউনাইটেড!

সাহাল আব্দুল সামাদ, মনবীর সিং, দীপক টাংরি, শুভাশিস বসু কিংবা আপুইয়া— প্রথম একাদশে ভারতের জাতীয় দলের একাধিক চেনা মুখ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারের মেলা! মাঠে বলের দখল ছিল, একের পর এক আক্রমণের ঝড় উঠেছিল, এমনকি গোলের সুবর্ণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল অগণিত। কিন্তু কাজের কাজ অর্থাৎ বল জালে জড়াতে গিয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিল মোহনবাগান। ৭ মিনিট ইনজুরি টাইম বাড়িয়ে ম্যাচ গড়াল ১০২ মিনিটে, কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হলো সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে।

সুযোগের পর সুযোগ নষ্ট, খালি হাতে ফিরলেন সাহাল-মনবীররা ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে আক্রমণ সাজাতে থাকে মোহনবাগান। সাহাল, কিয়ান ও মনবীরের ত্রিমুখী আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ইউনাইটেড স্পোর্টসের রক্ষণভাগ। ২২ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও তা বাইরে মারেন সাহাল। এর কিছুক্ষণ পরেই দীপক টাংরির বুলেট গতির জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সুশোভন ঘোষ। ৩১ মিনিটে ফের মনবীরের নিশ্চিত শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল গোল আসা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বক্সে গিয়েই ফাইনাল পাস ও ফিনিশিংয়ের অভাবে বারবার আটকে যেতে থাকে মোহনবাগানের ফুটবলাররা।

ফাঁকা গোল পেয়েও মনবীরের মহামিস! দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ এবং অবিশ্বাস্য সুযোগটি পেয়েছিলেন ভারতীয় দলের তারকা স্ট্রাইকার মনবীর সিং। কিয়ানের বাড়ানো দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। তাঁকে আটকাতে গিয়ে পথেই পিছলে পড়ে যান ইউনাইটেড গোলকিপার সুশোভন। সামনে তখন সম্পূর্ণ ফাঁকা গোলপোস্ট! ফুটবলপণ্ডিতদের মতে, গোল করার জন্য এর চেয়ে সহজ সুযোগ হতে পারে না। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সেই মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে সুবর্ণ সুযোগটি হাতছাড়া করেন মনবীর। এই একটি দৃশ্যই যেন মোহনবাগানের পুরো ম্যাচের খামখেয়ালিপনার গল্প বলে দিল।

৯০ মিনিটে মেলল কাঙ্ক্ষিত গোল, তবে নাটক তখনও বাকি অগণিত সুযোগ নষ্টের পর অবশেষে ৯০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের মুখ দেখে মোহনবাগান। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ঠিকমতো হাতে জমাতে পারেননি ইউনাইটেড গোলরক্ষক সুশোভন। তাঁর হাত থেকে ফস্কে যাওয়া বল পেয়েই খুব কাছ থেকে জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি সন্দীপ মালিক। মাঠে তখন সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উল্লাস, তিন পয়েন্ট প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ম্যাচের আসল ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল!

যোগ করা সময়ে সমতা ফেরাল ইউনাইটেড ৯০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি মেরিনার্সদের। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে (৯৬ মিনিট) অলআউট আক্রমণে ওঠে ইউনাইটেড স্পোর্টস। মোহনবাগান বক্সে তৈরি হওয়া তুমুল গোলমালের সুযোগ নিয়ে হেডে দুর্দান্ত ফিনিশ করে জালে বল জড়িয়ে দেন সুময়। মুহূর্তে নীরবতা নেমে আসে সবুজ-মেরুন শিবিরে। ১-১ ব্যবধানে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইউনাইটেড।

ইনজুরি টাইম ৭ মিনিটের বদলে ১০২ মিনিট! গোল খাওয়ার পর ম্যাচে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। দ্বিতীয় অর্ধে ৭ মিনিট ইনজুরি টাইম দেওয়া হলেও মোহনবাগান গোল হজম করার পর নির্ধারিত ৯৭ মিনিট পেরিয়েও খেলা চালিয়ে যান রেফারি। শেষ পর্যন্ত ১০২ মিনিটে গিয়ে শেষ বাঁশি বাজান তিনি। অতিরিক্ত সময় নিয়ে ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা প্রবল প্রতিবাদ জানালেও রেফারি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তবে এই বাড়তি পাঁচ মিনিটেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মোহনবাগান।

কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বড় জয়ের পর এই ম্যাচে সিনিয়র তারকাদের নামিয়েও ইউনাইটেডের কাছে পয়েন্ট নষ্ট করায় মোহনবাগানের দলের ফিনিশিং দক্ষতা ও ম্যাচ ধরে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *