নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তোলপাড় ফেলল প্রার্থীর নাম, ‘চমক’ দিয়ে কাকে ময়দানে নামাল কালীঘাট?

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা ও উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে নিজেদের জমি পুনরায় ফিরে পেতে বড়সড় মাস্টারস্ট্রোকে দিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। রবিবার উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বয়াল-২ এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে চমক দিয়েছে দল।

পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা সঞ্চিতার ওপর আস্থা রেখে কালীঘাট তৃণমূল বস্তুত নিজেদের পুরনো রাজনৈতিক গণভিত্তি শক্ত করার বার্তা দিতে চেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংক্ষিপ্ত অতীত পরিচয়:

  • ২০১৮–২০২৩: তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ।

  • ২০২২: হাই কোর্টের নির্দেশে ২০১৪ টেট দুর্নীতি মামলায় চাকরি বাতিল ও বেতন বন্ধের মুখে পড়েন।

  • রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: নির্দল প্রার্থী হিসেবে পরাজয়ের পর কুণাল ঘোষের হাত ধরে পুনরায় মূল স্রোতে প্রত্যাবর্তন।

চাকরি হারানো থেকে সরাসরি ভোটের রণক্ষেত্রে

সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২২ সালে যে ২৬৯ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছিল, সেই তালিকায় নাম ছিল সঞ্চিতারও। পরবর্তীতে চাকরি হারানোর ধাক্কা সামলে তিনি তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর সঞ্চিতা জানান, দল তাঁর ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন।

বয়াল-২ পঞ্চায়েত এলাকা থেকেই কেন বার বারবার প্রার্থী?

নির্বাচনী ক্ষেত্র প্রার্থী নির্বাচন ও প্রেক্ষাপট
বিগত বিধানসভা নির্বাচন বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান পবিত্র করকে প্রার্থী করে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়।
আসন্ন উপনির্বাচন আবারও বয়াল-২ অঞ্চলেরই জনপ্রিয় মুখ সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করে নতুন রণকৌশল তৈরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বয়াল এলাকা বরাবরই নন্দীগ্রামের ভোটের সমীকরণে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। সঞ্চিতার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পঞ্চায়েত সমিতিতে কাজ করার রেকর্ড এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে শুভেন্দুর দুর্গে কতটা লড়াই দেওয়া সম্ভব হয়, ১৯ তারিখের ফলই তার চূড়ান্ত উত্তর দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *