ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেই মহা কোন্দল! মোদী সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে কাকে কাঠগড়ায় তুললেন শশী থারুর?

ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন আয়োজন এবং ভারতের বৈদেশিক নীতি নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে চলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। তবে এই ইস্যুতে খোদ কংগ্রেসের অন্দরেই মতপার্থক্য এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একদিকে দলের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম ও সালমান খুরশিদ যখন মোদী সরকারের কূটনৈমিতিক সাফল্য ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন অন্যদিকে তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরের গলায় শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর।

চিদম্বরম ও খুরশিদের প্রশ্ন বনাম বিজেপির আক্রমণ

এর আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম দাবি করেছিলেন যে, গত ২-৩টি ব্রিকস সম্মেলন থেকে দেশের জন্য কোনো বড় বা জোরালো সুফল পাওয়া যায়নি। ব্রিকস, এসসিও (SCO), জি২০ বা কোয়াডের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দেশ নির্দিষ্ট কী লাভ পেল, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিদেশ বিষয়ক প্রধান সালমান খুরশিদও ওয়েস্ট এশিয়া সংকট এবং চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সরকারের অবস্থানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

কংগ্রেসের এই অবস্থানের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি পালটা আক্রমণ শানিয়ে জানায় যে, দেশের এই বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য এবং উন্নতি কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না কংগ্রেস।

শশী থারুরের বিপরীত অবস্থান

দলের অন্য নেতাদের বিপরীতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সরাসরি চিদম্বরমের বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং এটি আমাদের দেশের সুদৃঢ় কূটনৈতিক ক্ষমতারই পরিচায়ক। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির জিডিপি-র একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই মঞ্চ। থারুরের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী শিবিরের অন্দরের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, গ্লোবাল সাউথ-এর এই প্রভাবশালী মঞ্চকে নিয়ে কংগ্রেসের ঘরোয়া রাজনীতি এখন তুঙ্গে। একদিকে যখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কৌশলগত দুর্বলতার অভিযোগ তুলছে দল, অন্যদিকে থারুরের এই অবস্থান কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *