সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার কথা বললেও কেউ বিশ্বাস করেনি! ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে ঐশ্বর্যর সেই ক্ষতবিক্ষত রাতের রহস্য কী?

বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত একটি অধ্যায় হলো ঐশ্বর্য রাই এবং সলমন খানের সম্পর্ক। সম্প্রতি ২০০০ সালের একটি পুরোনো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের ভিডিও ক্লিপ হঠাৎ করেই ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে, যা নতুন করে উস্কে দিয়েছে সেই পুরোনো দিনের জল্পনা ও বিতর্ক। ভিডিওটিতে ঐশ্বর্যর শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই পুরোনো রহস্যই ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

কী ঘটেছিল ২০০০ সালের সেই ফিল্মফেয়ারের রাতে?

ঘটনাটি ঠিক ২৪ বছর আগের। ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বইতে বসেছিল ৪৫তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের আসর। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবির জন্য সেবার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠেছিলেন ঐশ্বর্য রাই। কিন্তু তাঁর ফোলার চোখ, হাতে চোট এবং কালো চশমা দিয়ে মুখের একাংশ ঢাকা থাকার বিষয়টি কারোরই চোখ এড়ায়নি।

সে সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ঐশ্বর্য ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, বাড়ির বাইরের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েই তাঁর চোখে ও হাতে চোট লেগেছে। মানুষের কৌতূহল মেটাতে তিনি এই কথাই প্রকাশ্যে আনেন। কিন্তু গ্ল্যামারাস নায়িকার মুখের এমন আঘাতের চিহ্ন সাধারণ মানুষ ও মিডিয়ার মনে তীব্র সন্দেহের জন্ম দেয়। এত বড় একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের ঠিক আগে সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার এই গল্পটা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি।

দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই এই ঘটনার সঙ্গে সলমন খানের সঙ্গে ঐশ্বর্যর উত্তাল সম্পর্কের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন অনুরাগীরা ও গণমাধ্যম। ঐশ্বর্যর ওই অবস্থার ঠিক পরেই সলমনের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার গুঞ্জন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল।

পরবর্তীকালে ২০০২ সালে টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য নিজেই সলমন খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, সম্পর্কে থাকাকালীন তাঁকে “মৌখিক, শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন” সহ্য করতে হয়েছে এবং সেই সম্পর্ককে তিনি একটি “দুঃস্বপ্ন” বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও সলমন খান বরাবরই এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। দীর্ঘ দুই দশক পর সেই পুরনো ভিডিওটি ফের ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ায় বলিউডের অতীতের সেই বেদনাদায়ক ও জটিল অধ্যায়টি আবার নতুন করে আলোচনার আলোয় উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *