বাজার থেকে জোর করে মাছ-মাংস ও টাকা তোলা! বৃহন্নলাদের তান্ডব রুখতে এবার যা করল জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ীরা!

সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে বৃহন্নলাদের একাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক ও সন্দেহজনক দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আর এই ঘটনার পরই ফুঁসে উঠেছেন জলপাইগুড়ির বাজারের ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের দোকান থেকে জোর করে টাকা তোলা এবং মাছ-মাংস ও শাকসবজি ছিনিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে ছিল, এবার তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুংকার দিলেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারে বৃহন্নলাদের যথেচ্ছ অত্যাচার ও ক্ষোভ
শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রায়কতপাড়ায় স্থায়ী আস্তানা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন বৃহন্নলার। অভিযোগ রয়েছে, এরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন বাজারে এসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করতেন। বিশেষ করে রবিবারের মতো ব্যস্ততম বাজারের দিনে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো মাছ, মাংস ও কাঁচা সবজি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করলে পড়তে হতো দুর্ব্যবহারের মুখে। ব্যবসার ক্ষতি এড়াতে এতদিন ব্যবসায়ীরা মুখ বুজে তা সহ্য করলেও, সাম্প্রতিক ঘটনার পর আর চুপ থাকতে নারাজ তাঁরা।
অস্ত্র উদ্ধার ও গোয়েন্দা তথ্যের পর কঠোর সিদ্ধান্ত
মূলত গত বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে জলপাইগুড়িতে বৃহন্নলাদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ ও বিএসএফ। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলা ওই তল্লাশি অভিযানে বৃহন্নলাদের ‘গুরুমা’ পিপাসা হিজড়ার বাড়ি থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, খালি ম্যাগজিন, তাজা কার্তুজ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্ম সার্টিফিকেট ও সিম কার্ড উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পরই তদন্তকারীদের অনুমান, এদের সঙ্গে কোনো বড় ধরনের দেশবিরোধী চক্রের যোগ রয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই জলপাইগুড়ি স্টেশন বাজার ও দিনবাজারের ব্যবসায়ী সমিতি যৌথভাবে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজার কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে বাজারে বৃহন্নলাদের আর কোনো জিনিস বিনামূল্যে তুলতে বা জোর করে তোলা আদায় করতে দেওয়া হবে না। ভদ্রভাবে কেউ বাজারে এলে আপত্তি না থাকলেও, বাড়তি বাড়াবাড়ি বা অভদ্রতা করলে সরাসরি আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।