পেনশনের টেনশন শেষ! অবসরের পর মোটা টাকা ঘরে তুলতে এই বিশেষ প্ল্যান সম্পর্কে জানেন কি?

বাজারে আর্থিক অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সঠিক অবসরকালীন পরিকল্পনা। সেক্ষেত্রে মূলত দুটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়—প্রথমত, জমানো অর্থ যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত টেকে এবং দ্বিতীয়ত, কর্মজীবন শেষ হওয়ার পরও যেন নিয়মিত আয়ের পথ খোলা থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এই উদ্দেশ্য পূরণে পেনশনের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বর্তমানে সরকারি ক্ষেত্র ছাড়া খুব কম সংস্থাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন দিয়ে থাকে। আর এখানেই সবথেকে বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে ‘অ্যানুইটি প্ল্যান’ (Annuity Plan)।

অ্যানুইটি প্ল্যান আসলে কীভাবে কাজ করে?

সাধারণত বিভিন্ন বিমা সংস্থার মাধ্যমে এই ধরনের প্ল্যানগুলি পরিচালিত হয়। গ্রাহক নিজের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো অ্যানুইটি প্ল্যানে এককালীন টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর সেই অর্থ বিমা সংস্থা বিভিন্ন লাভজনক জায়গায় বিনিয়োগ করে এবং তার বিনিময়ে গ্রাহককে নিয়মিত আর্থিক রিটার্ন বা পেআউট দিতে থাকে।

গ্রাহক নিজেই আগে থেকে নির্ধারণ করতে পারেন যে তিনি মাসিক, ত্রৈমাসিক নাকি বার্ষিক ভিত্তিতে এই টাকা পেতে চান। কেউ চাইলে সারা জীবন পেনশন পাওয়ার সুযোগ নিতে পারেন, আবার নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যেও এই প্ল্যান বেছে নেওয়া যায়।

কোন কোন বিষয়ের উপর পেআউট নির্ভর করে?

পেনশন ফান্ড রেগুলাটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA)-র তথ্য অনুযায়ী, অ্যানুইটি থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন—

  • সেই সময়কার সুদের হার ও গ্রাহকের গড় আয়ু।

  • অ্যানুইটির ধরন (সিঙ্গল লাইফ নাকি জয়েন্ট লাইফ)।

  • মৃত্যুর পর মূল বিনিয়োগের টাকা পরিবারের হাতে ফেরত দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে কি না।

প্রধানত কয় ধরনের অ্যানুইটি প্ল্যান পাওয়া যায়?

বাজারের বিভিন্ন সংস্থায় গ্রাহকদের সুবিধার জন্য মূলত চার ধরনের অ্যানুইটি প্ল্যান রয়েছে: ১. ডিফার্ড অ্যানুইটি প্ল্যান: ভবিষ্যতের জন্য বড়সড় তহবিল বা কর্পাস তৈরি করতে নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্ল্যান সাহায্য করে। অবসরের পর এখান থেকে পেনশন শুরু হয়। ২. ইমিডিয়েট অ্যানুইটি প্ল্যান: এককালীন টাকা জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্ল্যানে দ্রুত পেনশন বা পেআউট পাওয়া শুরু করা যায়। ৩. অ্যানুইটি ফর লাইফ: ক্রেতা জীবিত থাকা পর্যন্ত নিয়মিত টাকা মিললেও, তাঁর মৃত্যুর পর এই অর্থ প্রদান চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। বিমা সংস্থা মূল টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকে না, ফলে এতে রিটার্নের পরিমাণ কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। ৪. অ্যানুইটি উইথ রিটার্ন অব পারচেজ প্রাইস: এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, গ্রাহক বেঁচে থাকা পর্যন্ত নিয়মিত টাকা পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর পর মূল বিনিয়োগের সম্পূর্ণ টাকা আইনসম্মতভাবে উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৫. জয়েন্ট-লাইফ অ্যানুইটি: এই প্ল্যানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের এবং তাঁর জীবনসঙ্গী উভয়ের জন্যই নিয়মিত আয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। প্রাথমিক গ্রাহকের মৃত্যুর পর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাঁর সঙ্গীর এই সুবিধা অব্যাহত থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *