মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত মানেই মুসলিমদের ওপর চরম জুলুম! সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী!

অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের সরকারি নির্দেশকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধল। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি আসরে নেমেছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী পঠনপাঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

কী দাবি করেছেন ত্বহা সিদ্দিকী?

ফুরফুরা শরিফ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, মাদ্রাসাগুলোকে বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এক ধরণের জুলুম। তাঁর স্পষ্ট কথা, মাদ্রাসা মানেই শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়; বরং বহু মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমও পড়ানো হয়।

সংবাদমাধ্যমের সামনে তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। এতগুলি প্রতিষ্ঠানের পঠনপাঠন বন্ধ হলে সেখানকার পড়ুয়াদের কী হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, কিন্তু তা চিহ্নিত করে বন্ধ না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।” প্রয়োজনে ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুমোদনের আওতায় এনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

এদিকে ত্বহা সিদ্দিকীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সরব হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়ে অতীতেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই সরকার সঠিক সময়ে কড়া পদক্ষেপ করেছে। সবমিলিয়ে, অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ এবং ফুরফুরার পীরজাদার এই আপত্তির জেরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন সম্পূণ চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *