পুতিন-জিনপিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই রহস্যময় যুবক কে? যাঁর দিকে এখন গোটা দেশের নজর!

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেকে শুরু করে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং—অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনে এশিয়ার দুই মহাশক্তির রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা সেরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্ত হাই-প্রোফাইল বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ঠিক কাছাকাছি দেখা গিয়েছে এক হালকা চেহারার যুবলকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং পুতিনের মাঝেই একটু পিছনের দিকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি, ফ্রেমে রয়েছেন শি জিনপিংও। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কে এই ব্যক্তি?

চিনে নিন সিদ্ধার্থ বাবুকে

এই যুবকের নাম সিদ্ধার্থ বাবু। কেরলের কোচির এই কৃতী মালয়ালি যুবক ২০১৭ ব্যাচের ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসের (IFS) আধিকারিক। তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক দোভাষী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের ইউরোপ ও ইউরেশিয়া বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।

সংবেদনশীল কূটনৈতিক বৈঠকে ভাষাগত দূরত্ব দূর করা এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে কথোপকথনকে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শব্দচয়ন বা কথার সুরে সামান্য তফাতও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, আর সেখানেই দক্ষতার পরিচয় দেন সিদ্ধার্থ।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বিদেশ মন্ত্রকে

তবে কূটনীতি বা সিভিল সার্ভিস দিয়ে সিদ্ধার্থ বাবুর কর্মজীবন শুরু হয়নি। তিনি প্রথমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং কিছুকাল বেসরকারি সংস্থাও কাজ করেছেন। ই-কমার্স ক্ষেত্রেও তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পরবর্তীতে ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০১৬ সালে সর্বভারতীয় স্তরে ১৫তম স্থান অর্জন করেন তিনি। এই দুর্দান্ত র‍্যাঙ্কের সুবাদে তাঁর সামনে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা বা আইএএস (IAS)-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, আন্তর্জাতিক বিষয় ও কূটনীতির প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে তিনি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (IFS) বা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবাকেই বেছে নেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিদেশি ভাষা আয়ত্ত করে আজ তিনি দেশের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক মুখ হয়ে উঠেছেন। এর আগে চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথন সহজতর করতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *