প্রেমিকার ডাকে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! রায়বরেলীতে যুবকের পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ভাইরাল ভিডিও তুলল বড় প্রশ্ন

উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলীতে গ্রামপ্রধানের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক নতুন মোড় সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা ও পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে এক অভিযুক্তকে দাবি করতে দেখা গেছে যে, ঘটনার আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল, কিন্তু শত অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
ভিডিওটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পরও যদি সমাধান না হয়, তবে প্রয়োজনে ওই যুবককে মেরে ফেলার মতো চরম হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, তাদের তরফে এমন কোনো কথা বলা হয়নি। বর্তমানে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রায়বরেলীর বচ্ছরাবাঁও থানা এলাকার খৈরহনি গ্রামে। নিহত রামাকান্ত হরীচন্দপুর থানা এলাকার ছতইয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রেমের ফাঁদ ও তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার:
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন—মৃত যুবকের প্রেমিকা সোনি, সোনির স্বামী সুরেন্দ্র এবং তাঁর দেবর বীরেন্দ্র। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রামাকান্ত এবং সোনির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সোনি ফোন করে রামাকান্তকে খৈরহনি গ্রামে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠান। রামাকান্ত সেখানে পৌঁছানোর পর সোনি, তাঁর স্বামী সুরেন্দ্র ও দেবর বীরেন্দ্র মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্তে এও উঠে এসেছে যে, সোনি এর আগে রামাকান্তের বিরুদ্ধে তাঁকে উত্তক্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। এই বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এখন হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় গোটা মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মোড় নিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আগেই অভিযোগ জানানোর দাবি করায় প্রশ্ন উঠছে—তবে কি খুন হওয়ার আগেই পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল? আর যদি অভিযোগ জানানো হয়ে থাকে, তবে কেন সময়মতো পদক্ষেপ নিল না প্রশাসন?
পুলিশের তদন্ত ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে সব দিক:
ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পরকীয়া সম্পর্ক, আইনি অভিযোগ বা পূর্ববিরোধ—সমস্ত দিক একসঙ্গে খতিয়ে দেখে তদন্তের জাল আরও প্রশস্ত করা হয়েছে।