এআই-এর যুগে চাকরি টিকবে তো? বড় ধাক্কার মুখে নলেজ ওয়ার্কাররা, ভারতের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার প্রভাব কেবল চাকরি হারানোর আশঙ্কার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নলেজ বেসড বা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভূমিকা, আয় এবং কেরিয়ারের অগ্রগতিও এর ফলে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। এমতাবস্থায় ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের যুবসমাজকে এআই-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যেমন একদিকে এআই ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, তেমনই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন নতুন এআই কোর্স চালু করা হচ্ছে। এমনকি আইআইটিগুলিও (IIT) তাদের পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনছে, যাতে বদলে যাওয়া চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
এআই ট্রেনিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার:
এআই-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার চাকরিজীবী এবং যুবসমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর সর্বাধিক জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক স্তরে এআই ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানো এবং বিভিন্ন এআই টুলের সঠিক ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা। সরকারি স্তরে এআই প্রশিক্ষণ প্রসারিত হলে তা কর্মীদের পেশাগত জীবনে পরিবর্তনশীল কাজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অত্যন্ত সাহায্য করবে।
‘স্ট্যাটাস ড্রপ’ ও পদের ঘাটতির বড় চ্যালেঞ্জ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই আসার ফলে যে শুধু কিছু নির্দিষ্ট পদ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে তা নয়; বহু ক্ষেত্রে কর্মচারীদের কাজের দায়িত্ব এবং পদমর্যাদাও পরিবর্তিত হতে পারে। একে ‘স্ট্যাটাস ড্রপ’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি চাকরিতে বহাল থাকলেও তাঁর কাজের পরিধি, বেতন বা কেরিয়ারের গ্রোথ হয়তো আগের মতো আকর্ষণীয় থাকবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক বা নলেজ বেসড সেক্টরগুলিতে এই চ্যালেঞ্জটি আগামী দিনে আরও বেশি করে দেখা দিতে পারে। তাই কেবল চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করাই নয়, বরং মানসম্মত উন্নত কর্মসংস্থান বজায় রাখাও বর্তমানে এক বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন:
এআই-সচেতন ও দক্ষ যুবশক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চালু করা হয়েছে নতুন সব এআই কোর্স। আইআইটিগুলিও তাদের পাঠ্যক্রমে এআই এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র গতানুগতিক কিতাবি জ্ঞান না দিয়ে, প্রযুক্তি-ভিত্তিক কাজের জন্য হাতে-কলমে প্রস্তুত করা।
স্কুলস্তর থেকেই শুরু হচ্ছে প্রস্তুতি:
এআই-এর প্রাথমিক শিক্ষা এখন কেবল উচ্চশিক্ষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্কুলের পাঠ্যক্রমেও এটিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে অর্থাৎ ক্লাস ৩ থেকেই এআই সংক্রান্ত বিষয়গুলি সিলেবাসে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে শিশুরা একেবারে ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি বুঝতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে এআই-এর সঙ্গে কাজ করার এই দক্ষতাই যে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।