“করাচির বুকেই খতম হাফিজ সইদের ডানহাত!” পাকিস্তানে লস্কর শিবিরে চরম আতঙ্ক, অজানা হামলায় নিকেশ কুখ্যাত জঙ্গি

পাকিস্তান ও সন্ত্রাসী সংগঠনের অন্দরে ফের এক রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। করাচির মাটিতে খতম হয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ-তাইয়েবা (Lashkar-e-Taiba)-র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গি। মিলছে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তথা লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিল নিহত ওই ব্যক্তি। এই ঘটনায় করাচির সংবেদনশীল এলাকায় তীব্র হুলস্থূল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল করাচিতে?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, করাচির বুকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ অত্যন্ত সুকৌশলে ওই লস্কর জঙ্গিকে টার্গেট করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালানো হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। এরপর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলাকারীরা রাতের অন্ধকারে সহজেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পাকিস্তানের স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা এজেন্সি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তবে এখনও পর্যন্ত নিহত ওই জঙ্গির সঠিক নাম-পরিচয় কিংবা লস্কর সংগঠনে ঠিক কী পদ বা ভূমিকা ছিল সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পাক প্রশাসন।
কারা রয়েছে এই হত্যার নেপথ্যে?
গোয়েন্দা মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, পাকিস্তানের মাটিতে সাম্প্রতিককালে কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যেভাবে একের পর এক টার্গেট কিলিং বা গুপ্তহত্যার শিকার হতে হচ্ছে, এটিও তারই একটি অংশ। তবে এই হামলার নেপথ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গি দলের আন্তঃকোন্দল ও গ্যাংওয়ার রয়েছে, নাকি অন্য কোনো গভীর কূটনৈতিক ও গোপন ষড়যন্ত্র কাজ করছে—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
চারজন সশস্ত্র অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের অন্ধকারে এমন বড় মাপের অপারেশন চালিয়ে সফলভাবে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে খোদ পাক সেনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং এই রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি।