“ঘরে ঘরে জ্বলে উঠুক আশীর্বাদের প্রদীপ!” প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিনে দেশবাসীর উদ্দেশে এল এক বিশেষ আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন জন্মদিনটিকে এক বিশেষ ও ঐতিহাসিক উদযাপনের রূপ দিতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দেশবাসীর উদ্দেশে এক অভিনব ও বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার ঠিক ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ঘরে ‘আশীর্বাদের দিয়া’ বা প্রদীপ জ্বালানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং নিরবচ্ছিন্ন সাফল্য কামনা করে দেশবাসীকে আশীর্বাদ করারও আর্জি জানিয়েছেন দলের সভাপতি।
সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, জনসেবার মাধ্যমে দেশসেবাই হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনের মূল মন্ত্র। দেশের শাসনভার গ্রহণের পর গত ২৫ বছরের এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যাত্রা এক কথায় অভূতপূর্ব। তাঁর এই সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ভারতকে নতুন গতি এবং এক অনন্য শক্তি প্রদান করেছে। আজ তাঁরই দেখানো ‘বিকশিত ভারত @ ২০47’-এর পথ ধরে দেশ উন্নতির শিখরে এগিয়ে চলেছে।
করোনা কাল থেকে নারীর ক্ষমতায়ন— এক নজরে বিগত অর্জন:
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী প্রথম দেশের দায়িত্ব নেন, তখন চারপাশের পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু সেই সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি যুগান্তকারী নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে কোভিডের মতো মহামারীর সময়ে যখন গোটা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ শুধু ঘুরে দাঁড়ায়ইনি, বরং সফল টিকাকরণের মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক অনন্য বার্তা দিয়েছিল।
এছাড়া দেশের যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার মতো উদ্যোগ থেকে শুরু করে ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ এবং ‘লখপতি দিদি’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে বর্তমান সরকার।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসদমন:
দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, অতীতে দেশের ২০০-রও বেশি জেলায় নক্সালবাদের ভয়াবহ তাণ্ডব দেখা গেলেও, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সংকল্পে আজ সেই সমস্যার সম্পূর্ণ অবসান ঘটেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা সন্ত্রাসবাদের ছায়া থেকে দেশকে মুক্ত করে আজ ভারতীয় সীমানা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করা হয়েছে। দেশের দিকে চোখ রাঙানি দিলে যে উপযুক্ত ও কড়া জবাব দেওয়া যায়, সেই আত্মবিশ্বাস আজ প্রতিটি ভারতীয়ের মনে তৈরি হয়েছে।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে দেশের এই সামগ্রিক পরিবর্তন এবং রূপান্তরকে কুর্নিশ জানিয়ে প্রতিটি নাগরিককে ঘরের কোণে প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁর সুস্থ জীবন কামনা করার আহ্বান জানিয়েছে রাজনৈতিক মহল।