সিতাইয়ে বিরাট হাঙ্গামা! জগদীশ ফিরতেই বাড়ি ঘেরাও করে কার্যালয়ে আগুন?

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের সিতাই। দীর্ঘকাল জনরোষের ভয়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকার পর রবিবার সকালে সস্ত্রীক সিতাইয়ে নিজেদের বাসভবনে ফেরেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এবং তাঁর স্ত্রী তথা সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়। আর এই খবর চাউর হতেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ও বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সিতাই বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিতাইয়ে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি এই সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি। গত অগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়েও একবার সিতাইয়ে ফিরে তাঁরা স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এর আগে গত ২৩ জুন কোচবিহারে এলেও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেবার সিতাইয়ে যাননি তাঁরা। ১২ অগস্ট রাতেও তাঁরা বাড়িতে আসার চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সিতাইয়ের বাড়িতে প্রবেশ করেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া।
তবে এই বিক্ষোভের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া দাবি করেছেন, যাঁরা আজ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁরা হয়তো জানেন না যে তিনি আর আগের দলে নেই। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁরা এখনও মনে করছেন আমি তৃণমূল কংগ্রেসে রয়েছি। তাঁরা জানেন না, এখন আমি এনসিপিআইতে আছি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও এনডিএ-র জোট শরিক হিসেবে কাজ করছি।’ একই সঙ্গে তিনি এও দাবি করেন যে, সিতাইয়ে ফিরে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের আটকে থাকা নানা কাজও তিনি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন।
এদিকে সাংসদের বাড়িতে ফেরার খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হলেও পুজোর ঠিক আগে এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে সিতাইজুড়ে চরম থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।