‘সব ঠিক আছে তো?’ জিনপিংয়ের অস্বস্তি দেখেই থমকে গেলেন মোদী!

ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্পর্কের এক নজিরবিহীন মুহূর্ত সামনে এসেছে। নিজের উদ্বোধনী ভাষণ চলাকালীন হঠাৎই জিনপিংয়ের মুখের অভিব্যক্তি দেখে কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। চিনা প্রেসিডেন্টকে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকতে দেখে তিনি মাঝপথেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন এবং পাশে থাকা অনুবাদকের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘সব ঠিক আছে তো?’ জিনপিং সম্মতিসূচক মাথা নাড়ার পর তবেই ফের নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান মোদী। দূরদর্শনের ফুটেজে ধরা পড়া এই ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক অতীতে পূর্ব লাদাখ ও গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পর ভারত-চিন সম্পর্কে বরফ গলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এই ঘটনা তারই একটি ব্যক্তিগত ও তাৎপর্যপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সম্মেলনের শুরু থেকেই দুই নেতার উষ্ণ অভ্যর্থনা, দীর্ঘ করমর্দন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিমুখী আলোচনার ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চিন যখন পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মতো বিষয়ে ব্রিকস ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, তখন এই কূটনৈতিক উষ্ণতা নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।

তবে ব্যক্তিগত স্তরে সৌহার্দ্যের আবহ তৈরি হলেও দুই দেশের সম্পর্কের মূল কাঁটা যে সীমান্ত বিরোধ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতেও। ভারতের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুস্থ অগ্রগতির জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় শর্ত। অন্যদিকে বেজিংয়ের দাবি, সীমান্ত সমস্যার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। সবমিলিয়ে, ব্রিকসের মঞ্চে মোদীর এই মানবিক ও সৌজন্যমূলক আচরণ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে কতটা সাহায্য করবে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *