পুজোর মুখে কলকাতায় ডেঙ্গির থাবা! হাজার পার আক্রান্তের সংখ্যা, আপনার ওয়ার্ড কি রেড জোনে?

শহর জুড়ে এখন থেকেই শারদোৎসবের আগমনী সুর। কেনাকাটা থেকে শুরু করে দ্রুত গতিতে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। কিন্তু এই উৎসবের আবহেই তিলোত্তমায় চুপিসারে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে ডেঙ্গি। ইতিমধ্যেই কলকাতায় মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১,০০০ অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে পুজোর আনন্দে যাতে ডেঙ্গির ছায়া না পড়ে, তার জন্য কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ ও ভেক্টর কন্ট্রোল টিম জোড়কদমে ময়দানে নেমেছে।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কোন কোন এলাকায়?
পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের ১৬টি বোরোর মধ্যে মূলত ৫টি বোরোতেই মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৮ শতাংশ রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি ও জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ২, ৭, ৮, ৯ এবং ১৬ নম্বর বোরোতে।
মশার লার্ভা মেলার তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ১৬ নম্বর বোরো। সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৮১টি স্থান থেকে মশার লার্ভা শনাক্ত করে তা ধ্বংস করেছেন ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীরা। এর পরেই রয়েছে ১০ নম্বর বোরো (২২৪টি স্থান) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ৯ নম্বর বোরো (১৪৪টি স্থান)। এই ১৬ ও ১০ নম্বর বোরো মিলেই মোট লার্ভা ধ্বংসের ২৮ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে।
পুরসভার মেগা ড্রাইভ ও পরিসংখ্যান:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরসভা ৩ দিনের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে:
-
পাত্র পরীক্ষা: প্রায় ৯৩,০০০টি পাত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ১,৮০০ জায়গায় মশার লার্ভা মিলেছে।
-
বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা: ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীরা ৩২,৫০০টি বাড়িতে ঘুরে তদারকি করেছেন।
-
বিশেষ নজরদারি: ৬৮টির বেশি নির্মাণাধীন বাড়ি এবং ৪২টি আবর্জনাপূর্ণ ফাঁকা জমিতে তদারকি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি মজে যাওয়া ২২টি পুকুর পরিষ্কার করা হয়েছে।
যে সমস্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জঞ্জাল জমে ছিল, পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সাফাাই বিভাগের সাহায্যে তা পরিষ্কার করিয়েছে, যাতে বৃষ্টির জল জমে ডেঙ্গি মশার ডিম পাড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হতে পারে।
পুরসভার পরামর্শ ও সাধারণ মানুষের করণীয়
কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “শরৎ-হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে সাধারণত ডেঙ্গির প্রবণতা হ্রাস পায়। তবে এই ক্রান্তিকালীন সময়টাই ডেঙ্গি ছড়ানোর চরম ঝুঁকি তৈরি করে। পুরকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জল ও জঞ্জাল পরিষ্কারের খোঁজ নিচ্ছেন। তবে শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ মানুষকেও সমান সতর্ক থাকতে হবে।”
পুরসভার পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে: ১. বাড়ির আশপাশ এবং টব, বালতি বা খালি পাত্রে জল জমতে না দেওয়া। ২. মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করা। ৩. জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ ওয়ার্ড হেলথ ইউনিটের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া।