বিরোধী দলনেতা হতে সই জাল? শোভনদেবের বিরুদ্ধেই তৃণমূল ভাঙার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মদন মিত্র!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শোরগোল ফেলে দিয়ে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই সরাসরি দল ভাঙার গুরুতর অভিযোগ তুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তৈরি হওয়া সই জাল সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে শোভনদেবকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তিনি। মদনের বিস্ফোরক দাবি, বিরোধী দলনেতা হওয়ার লোভে সমস্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে সই জাল করা হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্যই দলে ভাঙন ধরেছে।
যা বলেছেন মদন মিত্র
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মদন মিত্র জানান, এত কিছু সহ্য করা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে তা মেনে নিলেন, তা নিয়ে তাঁর বিস্ময় জাগে। শোভনদেবের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর ৭২ সালে বার্লিন যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মদন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা হওয়ার বাসনায় বয়স্ক নেতাদের দাঁড় করিয়ে সমস্ত স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মদনের মন্তব্য, মাতৃমন্ত্র ও চণ্ডীপাঠ পড়ে অতীতে অনায়াসে নমিনেশন পাওয়ার নজির পৃথিবীতে বিরল। শোভনদেব তাঁকে অতীতে সার্কাসের ক্লাউন বললেও, তিনি পালটা তাঁকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ক্লাউন বলে আক্রমণ করতে পিছপা হননি। মদনের সাফ কথা, শোভনদেবকে পোষ্য হিসেবে বিরোধী দলনেতা বানানোর জন্যই এই পুরো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত যে সই জাল কাণ্ডে
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর বিরোধী দলনেতা পদের জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে বিধানসভায় একটি রেজোলিউশন জমা পড়েছিল। সেই প্রস্তাবে তৃণমূলের ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও, পরবর্তীতে একাধিক বিধায়ক অভিযোগ করেন যে নথিতে থাকা সইগুলি তাঁদের নয় এবং পুরোনো স্বাক্ষরের সঙ্গে সেগুলির মিল নেই।
এই স্বাক্ষর জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপান সাহার মতো নেতারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং এই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করা হলেও এই পুরো পর্বের জেরে তৃণমূল কার্যত দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।