“ওঁর কণ্ঠ থামতে দেব না!” জুবিনের শেষ গান নিয়ে কেঁদে ফেললেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, জানুন নেপথ্যের আবেগঘন গল্প!

প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী জুবিন গর্গকে স্মরণ করে গভীরভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁদের দীর্ঘদিনের কাজের স্মৃতি, জুবিনের অসাধারণ শিল্পীসত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আসন্ন বাংলা সিনেমা ‘সে তো আজও বোঝেনা’-তেই জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে শেষবারের মতো গান গেয়েছেন জুবিন গর্গ। ফলে এই ছবিটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রয়াত শিল্পীর কণ্ঠের এক অমূল্য স্মৃতি।

জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “জুবিন গর্গ শুধুমাত্র একজন অসাধারণ গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অনন্য শিল্পী। তাঁর কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব এবং সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। জুবিনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সঙ্গীত নিয়ে তাঁদের একসঙ্গে কাটানো সময় আজও আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।”

‘সে তো আজও বোঝেনা’ সিনেমাটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও জুবিন গর্গের দীর্ঘ সঙ্গীতযাত্রার এক স্মরণীয় অধ্যায়। ছবিতে জুবিনের কণ্ঠে থাকা এই শেষ গানটি যে দর্শক-শ্রোতাদের মনে গভীর দাগ কাটবে এবং আলাদা আবেগের সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য। রন রাজের পরিচালনায় এবং মুকেশ কুমার পান্ডের প্রযোজনায় এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহম চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় এবং দেবাশিস মণ্ডল।

উল্লেখ্য, জুবিন গর্গ ছিলেন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুমুখী প্রতিভা—যিনি একই সঙ্গে গায়ক, সুরকার, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অসমীয়া গানের পাশাপাশি বাংলা এবং হিন্দি সঙ্গীত জগতেও তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি চল্লিশ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন।

ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাওয়াত অভিনীত ‘গ্যাংস্টার’ ছবির ‘ইয়া আলি’ গানটি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। পাশাপাশি, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর গাওয়া ‘ও বন্ধু রে’, ‘চোখের জলে’, ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ এবং ‘পিয়া রে পিয়া রে’ গানগুলি আজও বাঙালি শ্রোতাদের মনে চিরকালের সেরা নস্টালজিয়া হয়ে বেঁচে রয়েছে। গত ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং সংক্রান্ত একটি দুর্ঘটনায় মাত্র বায়ান্ন বছর বয়সে এই প্রথিতযশা শিল্পীর অকাল প্রয়াণ ঘটেছিল। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে সঙ্গীত জগতে তৈরি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *