“আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হতো”-বাংলার হিন্দুদের সতর্ক করলেন শুভেন্দু

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অবশেষে মারা গিয়েছেন বাংলাদেশের জেলবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা। অসুস্থ মায়ের শেষ ইচ্ছার পরেও জেলবন্দি ছেলের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়নি সরকার। এমনকি মায়ের মৃত্যুর পর মাত্র ৫ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চোখের জলে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে হয় তাঁকে। ওপার বাংলার এই মর্মান্তিক ঘটনাকে সামনে রেখেই এবার পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালিদের তীব্র সতর্কবার্তা শোনালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা, ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ তৈরি না হলে এপার বাংলার হিন্দুদের অবস্থাও আজ চিন্ময় দাসের মতোই হতো।

চিন্ময় দাসের চোখের জল ও ডায়েরির পাতা থেকে ব্যক্তিগত যন্ত্রণার কথা শনিবার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই প্রসঙ্গ তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি রাজ্যবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “ওপার বাংলার চিন্ময় প্রভুর চোখের জল গোটা পৃথিবীর সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে। আমি সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের বলিষ্ঠ লড়াই এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে যদি আমাদের ভারতভুক্তি ও পশ্চিমবঙ্গ না মিলত, তবে আজ আমাদের পরিণতিও ওই একই হতো।” এর পরই নিজের পারিবারিক কষ্টের কথা টেনে তিনি জানান, কেবলমাত্র হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর নিজের মাতৃদেবীকেও ছোটবেলায় পিতৃদেবের হাত ধরে ওপার বাংলা থেকে ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস ও বাম আমলকে আক্রমণ বক্তৃতার এক পর্যায়ে বাঙালি হিন্দুদের এই নিজস্ব ভূখণ্ড বা ‘হোমল্যান্ড’ গঠনের ইতিহাস স্মরণ করান শুভেন্দু। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাঙালি হিন্দুদের জন্য এই পশ্চিমবঙ্গ গঠিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিগত কয়েক দশকে এই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে যারা ধর্মকে ‘আফিম’ বলত, তারা শাসন চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরির অপচেষ্টা চলেছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করেই আজ এমন একটি সরকার এসেছে যারা বহুজন হিতায় ও বহুজন সুখায় নীতিতে বিশ্বাসী।

একই সঙ্গে বামেদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে শুভেন্দু জানান, দীর্ঘ ৩৪ বছরের লাল রাজত্বের দিনে মানুষকে পঞ্জিকা, শাস্ত্র, ঐতিহ্য এবং পুজোর নানা পরম্পরা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। দুর্গাপুজোর বদলে মণ্ডপের বাইরে লাল শালু টাঙিয়ে বইয়ের স্টল বসানো সেই শক্তিগুলি আজও সনাতন সংস্কৃতির বিরোধিতা করে চলেছে বলে আক্রমণ শানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *