৬ বছরের বরফ গলল! জিনপিংয়ের দিল্লি আসার আগেই ভারত-চিন নিয়ে এল বিরাট সুখবর, ফের চালু হচ্ছে সরাসরি বিমান পরিষেবা

১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনपिंगের ভারত আগমনের ঠিক প্রাক্কালে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। ভারত-চিন বিমানন ও কূটনৈতিক সম্পর্কে এক বিরাট সাফল্যের দেখা মিলেছে। দীর্ঘ ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে চিনা সংস্থা ‘চाइना সাউদার্ন এয়ারলাইন্স’ (China Southern Airlines) আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে গুয়াংঝু-নয়াদিল্লি রুটে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে।
৬ বছর পর সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ
২০২০ সালে করোনা মহামারী এবং গালওয়ান উপত্যকার সীমান্ত উত্তেজনার জেরে ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করায় প্রাথমিক পর্যায়ে বোয়িং ৭৩৭-৮ বিমানের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫ দিন এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে আগামী ২৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এটি প্রতিদিনের (ডেলি) পরিষেবায় রূপান্তরিত হবে।
বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুয়াংঝু হল চিনের বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বিখ্যাত ক্যান্টন ফেয়ারের প্রবেশদ্বার। ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনपिंगের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ঠিক আগে বিমান চলাচলের এই স্বাভাবিকীকরণ উভয় দেশের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিটুবি সাপ্লাই চেইন, ইলেকট্রনিক্স আমদানি এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকে এক নতুন গতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হচ্ছে বিমান চলাচল
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ‘এয়ার চায়না’ বেজিং-দিল্লি পরিষেবা এবং ‘চाइना ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স’ কুনমিং ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করেছিল। এছাড়া ভারতের ‘ইন্ডিগো’ সংস্থাও কলকাতা থেকে সাংহাই ও গুয়াংঝু রুটে বিমান চলাচল শুরু করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের (MEA) সবুজ সংকেতের পরেই দ্বিপক্ষীয় এই বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে।
ব্রিকস সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনपिंग ইতিমধ্যে বেজিং থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শনিবারই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিনিধিদলে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই চি এবং চিনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মতো শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস মঞ্চে বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই শীর্ষ বৈঠক এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।