পিএ-র বাড়ি থেকে উদ্ধার ৩২ লক্ষ ক্যাশ ও রোলেক্স ঘড়ি! ইডির হানার পরেই বড় পদ ছাড়লেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত

উত্তরাখণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াতের ব্যক্তিগত সহায়ক (PA)-র বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর ম্যারাথন অভিযানের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাহাড়ি রাজ্যের রাজনীতি। এই ঘটনার পরই দলের ভেতর ও বাইরের চাপ এড়াতে কংগ্রেসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন খোদ হরিশ রাওয়াত।
পিএ-র বাড়ি থেকে উদ্ধার ক্যাশ ও বিলাসবহুল ঘড়ি
গত শুক্রবার ইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের রাজ্য সেবা নির্বাচন কমিশনের একটি পরীক্ষার কথিত অনিয়ম ও মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে দেরাদুনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতের পিএ চন্দন সিং জিনার ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই তল্লাশিতে জিনার বাড়ি থেকে ৩২ লক্ষ টাকার হিসাব বহির্ভূত নগদ অর্থ, ২০০.৫ গ্রাম ওজনের সোনার কয়েন ও চেন এবং রোলেক্স, রাডো, পিয়াজে ও টিসো-র মতো দামি ব্র্যান্ডের ১২টি বিলাসবহুল ঘড়ি বাজেট করা হয়েছে। পাশাপাশি, জিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৫২.১৬ লক্ষ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বাজোপ্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমান সময়েও চন্দন সিং জিনা হরিশ রাওয়াতের ব্যক্তিগত সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে রাওয়াত যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখনও জিনা তাঁর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD)-র দায়িত্ব সামলেছিলেন।
কী প্রতিক্রিয়া হরিশ রাওয়াতের?
নিজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বাড়িতে ইডি-র এই হানার পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হরিশ রাওয়াত। তিনি জানান, টেলিভিশনে নানা খবর ভেসে আসছে, তবে সত্যতা তদন্তে পরিষ্কার হবে। জিনা একজন সজ্জন ও পরিশ্রমী ব্যক্তি বলে দাবি করলেও তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, যদি পরীক্ষার ওএমআর (OMR) শিট বিকৃত করার মতো কোনো অপরাধ জিন করে থাকেন এবং তার প্রমাণ থাকে, তবে তার জন্য তিনি নিজে লজ্জিত।
নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রতিপত্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা বলেন, “যখন কেউ আমায় জিজ্ঞেস করে নির্বাচন কবে, তখন আমি রসিকতা করে বলতাম—নির্বাচন তখন আসবে যখন সিবিআই আমার দরজায় কড়া নাড়বে। তবে এবার আমার বাড়িতে নয়, বরং সহযোগীর বাড়িতে হানা দিয়ে একটি ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চলছে।”
কংগ্রেসের দুটি পদ ছাড়ার ঘোষণা
দলের স্বার্থকে সবার উপরে রেখে কংগ্রেসের দুটি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন হরিশ রাওয়াত। তিনি জানিয়েছেন, “উত্তরাখণ্ডের এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে আমার কোনো বিষয়ের কারণে যদি দল দুর্বল হয়, তা আমি কিছুতেই চাইব না। তাই নিজের ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করে আমি অত্যন্ত বিনীতভাবে উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পদ এবং জাতীয় স্তরের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য—এই দুটি পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি।”
পাশাপাশি, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে নিজের বা তাঁর সরকারের কোনো যোগসাজশ থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতেও তিনি পিছপা হবেন না বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।