৩ লাখ টাকা দাম শুনে চোখ কপালে উঠছে? ভারতে ফোল্ডেবল আইফোন ডুয়োর আকাশচুম্বী দামের আসল রহস্য ফাঁস

অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুয়ো নিয়ে বাজারে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ভারতে এই ফোনটির ২৫৬ জিবি বেস মডেলের দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, এর সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজযুক্ত মডেলটির দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ফোনের প্রাথমিক মূল্য ১ হাজার ৯৯৯ ডলার ধরা হলেও, ভারতে এর দাম দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন।

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে যে আমেরিকার তুলনায় ভারতে ফোনটি প্রায় ৫৮ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে দুই দেশের শুধুমাত্র খুচরা মূল্য তুলনা করলেই আসল চিত্রটি স্পষ্ট হয় না। এর পেছনে কাজ করছে সুনির্দিষ্ট কিছু আমদানি শুল্ক এবং কর ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কর কাঠামোর ফারাক

আমেরিকায় অ্যাপলের ঘোষিত ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের মূল্যের মধ্যে কোনো ধরনের বিক্রয় কর বা সেলস ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে না। অঙ্গরাজ্য ভেদে এই করের হার সাধারণত ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে মার্কিন ক্রেতাদের বাস্তবে ফোনটি কিনতে এর চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। অন্যদিকে, ভারতে ঘোষিত ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ভেতরেই ১৮ শতাংশ জিএসটি বা পণ্য ও সেবা কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় উৎপাদনের প্রভাব

গত কয়েক বছর ধরে অ্যাপল ভারতেই অনেক মডেলের আইফোন উৎপাদন করছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় সেই ফোনগুলোর দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু ফোল্ডেবল আইফোন ডুয়োর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত বা সিবিইউ ইউনিট হিসেবে ভারত বাইরে থেকে আমদানি করছে। ফোল্ডেবল ফোনের স্ক্রিন এবং হিঞ্জের মতো যন্ত্রাংশ অত্যন্ত জটিল হওয়ায় এর উৎপাদন প্রযুক্তি সাধারণ ফোনের চেয়ে আলাদা। এছাড়া ভারতে আমদানিকৃত এই ফোনের ওপর প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।

কর এবং শুল্ক বাদ দিলে দামের প্রকৃত তফাত কত?

হিসেব কষে দেখলে দেখা যায়, ভারতের মূল্য থেকে ১৮ শতাংশ জিএসটি এবং আনুমানিক ২৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাদ দিলে ফোনের প্রকৃত মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বা ২ হাজার ৮৭ ডলারের কাছাকাছি। মার্কিন তালিকার ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, কর ও আমদানি খরচ বাদ দেওয়ার পর দুই দেশের মূল্যের ব্যবধান মোটে ৮৮ ডলারের মতো। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব এবং অ্যাপলের সরবরাহ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই অঙ্কে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। ভবিষ্যতে ভারতে এই ফোনের স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে এর দাম কিছুটা কমতে পারে বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *