ঘরে ঘুমাচ্ছিল স্ত্রী ও তিন তরুণী কন্যা, তারপর এমন কী ঘটল যে পাথর দিয়ে পর পর মাথা থেঁতলে দিলেন বাবা?

গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী ও তিন মেয়েকে ইট দিয়ে পর পর আঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল পরিবারের কর্তার বিরুদ্ধে। রাজস্থানের জয়পুরের গোবিন্দপুরা এলাকায় ঘটা এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত চার জনের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের গীতা ঝা এবং তাঁর তিন মেয়ে— নন্দিনী, গিরিশা ও রাধিকা। নিহত তরুণীদের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। অভিযুক্ত রাহুল ঝা নিহত গীতার স্বামী এবং ওই তিন তরুণীর বাবা। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ এই ভয়াবহ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই বাড়ি থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সন্দেহ হয়। এরপরই তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে চার জনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় বাড়িতে অভিযুক্তের ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাও উপস্থিত ছিলেন।

খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির সামনে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) ও ডগ স্কোয়াডকে তলব করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা ও হামলায় ব্যবহৃত ইটটি বাজেয়াপ্ত করেছেন।

জয়পুর পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) প্রশান্ত কিরণ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিবাদের জেরে এই খুন বলে অনুমান করা হলেও, ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এমন নৃশংস হামলা চালানো হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পলাতক অভিযুক্ত রাহুল ঝাকে গ্রেফতারে একাধিক বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। শহরের সমস্ত প্রবেশ ও প্রস্থান দ্বারে নজরদারি বাড়িয়ে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *