প্রস্রাবে এই লক্ষণ দেখলেই কি এড়িয়ে যাচ্ছেন? মূত্রথলির ক্যানসার গোড়াতেই চেনার এই মারাত্মক উপায়টি অবশ্যই জানুন!

বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং সচেতনতার অভাবে শরীরে নানা ধরনের মারণব্যাধি বাসা বাঁধছে। এর মধ্যে ক্যানসারের মতো রোগ অন্যতম। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অন্যান্য অনেক ক্যানসারের তুলনায় মূত্রথলির ক্যানসার বা ব্লাডার ক্যানসার (Bladder Cancer) অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি এতটাই সাধারণ হয় যে, বহু মানুষই সেগুলিকে সাময়িক ইউরিন ইনফেকশন বা অন্য কোনো ছোটখাটো সমস্যা ভেবে সম্পূর্ণ অবহেলা করেন। আর ঠিক এই ভুলের কারণেই রোগটি পরবর্তী সময়ে জটিল আকার ধারণ করে।

মূত্রথলির ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলি কী কী?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ব্লাডার বা মূত্রথলির কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হলে শরীর কিছু নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সংকেত দিতে শুরু করে। এই লক্ষণগুলির মধ্যে প্রধান দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া (Hematuria): এটি মূত্রথলির ক্যানসারের সবচেয়ে প্রধান ও প্রথম লক্ষণ। প্রস্রাবের রং যদি হঠাৎ করে হালকা গোলাপি, লালচে বা কলার রঙের মতো হয়ে যায়, তবে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় ব্যথা ছাড়াই এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

২. বারবার প্রস্রাবের বেগ বা ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি: সারাদিনে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব করা কিংবা হঠাৎ করে রাতে ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে তা চিন্তার বিষয় হতে পারে।

৩. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা: প্রস্রাব করার সময় যদি তলপেটে বা মূত্রনালীতে তীব্র জ্বালাপোড়া, অস্বস্তি বা তীক্ষ্ণ ব্যথা অনুভূত হয়, যা সাধারণ ওষুধেও সারছে না, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।

৪. প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা দুর্বল ধারা: প্রস্রাবের বেগ আসার পরেও ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া কিংবা প্রস্রাবের ধারা অত্যন্ত দুর্বল ও সরু হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে তা চিকিৎসকের নজরে আনা উচিত।

৫. তলপেট বা পিঠে অব্যক্ত ব্যথা: ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যদি পেলভিস বা তলপেটের অংশ এবং পিঠের নিচের দিকে একটানা বা অসহ্য ব্যথা শুরু হয়, তবে তা গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

সময় থাকতেই সজাগ হোন
চিকিৎসকদের বারবার সতর্ক করে বলছেন যে, এই লক্ষণগুলির মধ্যে যেকোনো একটি বা একাধিক উপসর্গ যদি দীর্ঘসময় ধরে আপনার শরীরে স্থায়ী হয়, তবে তা সামান্য ইউরিন ইনফেকশন ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের (Urologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে এই মারণরোগকে সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব। সচেতনতাই হলো জীবন সুরক্ষার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

(ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ সচেতনতা ও তথ্যের উদ্দেশ্যে পরিবেশিত। কোনো দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *