‘ইংরেজি ক্লাসে ভুল করায় চর ও ঘাড়ে মার!’ খুদের ওপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ

 উত্তর ২৪ পরগনার একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষিকার নির্মম মারধরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত ওই ইংরেজি শিক্ষিকার কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার নিমতা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, বিরাটি ইউপি স্কুলে। পরিবারের অভিযোগ, ক্লাসে পড়াশোনায় ছোটোখাটো ভুল করায় ওই শিক্ষিকা ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির দু’গালে সজোরে চড় মারেন এবং ঘাড়ে আঘাত করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে ক্লাসের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ওই শিশুটি। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত স্কুলে ছুটে যান এবং ঘটনার পরই নিমতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও থানায় এসে জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অভিভাবকদের একাংশের বিস্ফোরক অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষিকা একাধিক ছাত্রছাত্রীকে মারধর করেছেন এবং অতীতে বাচ্চাদের দিয়ে নিজের হাত-পা টিপিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন। যদিও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, অতীতে এই ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তাঁর কাছে জমা পড়েনি। তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি নিজে স্কুল শিক্ষা দপ্তরে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানাবেন।

এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির মা জানান, ঘটনার দিন সকালে স্কুল থেকে ফোন করে জানানো হয় যে তাঁর ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে স্কুলে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, ইংরেজি ক্লাসের পড়া পার না পারায় নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল তাঁর সন্তানকে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *