‘শারদোৎসব’ বলাই কি অপরাধ? বিধানসভায় শুভেন্দুর নিদান ঘিরে তোলপাড় রাজ্য!

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। পুজো প্রাঙ্গণে বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, এবার যদি কোনো কমিউনিস্ট দল বইয়ের স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখে, তবে মণ্ডপের আশপাশে তাদের কোনো স্টল বসতে দেওয়া হবে না। স্টল পেতে হলে নামের জায়গায় স্পষ্টভাবে ‘দুর্গাপুজো’ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে প্রতিবাদের ঝড়।
মুখ্যমন্ত্রীর এমন ফতোয়ার তীব্র বিরোধিতা করে বিধানসভার একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা প্রশ্ন তুলেছেন, বাঙালির প্রাণের মহালয়ার ভোরের জনপ্রিয় সূচনা অর্থাৎ ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে’ শব্দযুগলও কি তবে এবার বদলে ফেলা হবে? তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন এবং দুর্গাপুজোকে সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে ফেলার চেষ্টা করছেন। তাঁর কটাক্ষ, এতদিন কি রাজ্যে দুর্গাপুজো বা দুর্গোৎসব হয়নি? বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি বা গেরুয়া শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে বাম শিবিরও যে সহজে পিছু হটছে না, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। সিপিআইএমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিয়ম মেনেই মার্ক্সীয় সাহিত্যের স্টল বসবে এবং স্টলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, প্রতিবাদ হিসেবে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘শারদোৎসব’ নাটকের প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছে বামেরা। পুজো মণ্ডপের চৌহদ্দিতে বইয়ের স্টল বসা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই তরজা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।