কাকভোরে ফের প্রকৃতির কোপ! ডাইভারশন ভেঙে শিলিগুড়ি-মিরিক যাতায়াতে বড় ধাক্কা

রাতভর চলা মুষলধারে বৃষ্টি এবং পাহাড়ি নদীর স্রোতে ফের তছনছ হয়ে গেল শিলিগুড়ি-মিরিক সংযোগকারী রাস্তা। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ উদ্যোগে তৈরি করা ডাইভারশনটি বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়ার জেরে ওই রুটে বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে।
সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে শিলিগুড়ি-মিরিকের বালাসন নদীর ওপর মূল সেতুটি ভেঙে পড়ার পর রাজ্য সরকারের তরফে সেখানে হিউম পাইপ বসিয়ে একটি অস্থায়ী ডাইভারশন তৈরি করা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাস নাগাদ প্রবল জলের তোড়ে সেই ডাইভারশনটি ভেসে গেলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় একটি নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। তবে নিরাপত্তা ও ওজনের কথা মাথায় রেখে ওই বেইলি ব্রিজ দিয়ে শুধুমাত্র হালকা যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়ে যাত্রিবাহী বাস এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রাকগুলি ঘুম-সুখিয়াপোখরি বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত শুরু করে।
এই ব্যবস্থার কারণে যাতায়াতে বাড়তি সময় ও খরচ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা ডাইভারশনটি সারিয়ে নেন এবং সেখান দিয়েই বাস ও লরি চলাচল শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের টানা বৃষ্টিতে সেই স্থানীয়ভাবে মেরামত করা অংশটি ফের জলের তোড়ে ভেঙে ধসে পড়ে।
অবশ্য মূল বেইলি ব্রিজটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকায় শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। হালকা গাড়িগুলি আগের মতোই চলাচল করছে। তবে বাস এবং ভারী ট্রাকগুলিকে পুনরায় ঘুরপথে ঘুম-সুখিয়াপোখরি হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বালাসনের জলের তীব্রতা কমলে তাঁরা ফের নিজ দায়িত্বে রাস্তা সারানোর চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে, পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে বালাসন নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ চলছে, যা আগামী বছরে চালু হওয়ার কথা। স্থায়ী সেতুটি তৈরি হয়ে গেলে এই বেইলি ব্রিজ ও ডাইভারশনের স্থায়ী সমস্যার চিরতরে অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।