মায়ের শেষকৃত্যে মাত্র ৫ ঘণ্টার প্যারোল! মন্দিরের মূর্তিতে হাত ছোঁয়াতেই অঝোরে কেঁদে ভাসালেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস

মায়ের অন্তিমযাত্রায় অংশ নিতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। গত প্রায় দুই বছর ধরে দেশদ্রোহিতা সহ একাধিক মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন তিনি। চিন্ময়ের পরিবারের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ (বাংলাদেশ সময়) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্যারোল মঞ্জুর করেন।

শেষ ইচ্ছা অধরা মায়ের
মারা যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ছেলের মুখটি একবার দেখার তীব্র ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণের মা সন্ধ্যারানি ধর। কিন্তু তাঁর সেই শেষ আশা অপূর্ণ রেখেই বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারির একটি হাসপাতালে জীবনাবসান ঘটে তাঁর। মায়ের অন্ত্যেষ্টিতে ছেলেকে উপস্থিত করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জোরদার আর্জি জানানো হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই মেলে পাঁচ ঘণ্টার বিশেষ প্যারোল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগেও মা ছেলেকে দেখতে চাইলেও তখন প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। ফলে মায়ের সেই শেষ ইচ্ছাও পূরণ হয়নি। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষকৃত্যে যোগ দিতে তাঁকে হাটহাজারীতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত পাঁচ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হতেই তাঁকে পুনরায় কঠোর নিরাপত্তায় জেলে ফিরে যেতে হয়।

পুণ্ডরিক ধামে শেষকৃত্য ও আবেগের মুহূর্ত
মায়ের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। জেলের ফেরার আগে চট্টগ্রামের পুণ্ডরিক ধাম মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ মূর্তির চরণে হাত ছুঁয়ে তাঁর অঝোরে কান্নার সেই দৃশ্য ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এবং তা ঘিরে তীব্র আবেগ ছড়িয়েছে। তাঁর ভাই রঞ্জন কুমার ধর জানিয়েছেন, সমস্ত ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সন্ধ্যারানি ধরের শেষকৃত্য পুণ্ডরিক ধামেই সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে জেলবন্দি রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ সহ একাধিক গুরুতর মামলা বিচারাধীন। তৎকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার পর তাঁর গ্রেপ্তারির ঘটনায় গোটা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *