নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট? পুজোর পরেই মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু রাজ্যে

পুজো মিটতেই বাংলায় ফের ভোটের দামামা বাজতে চলেছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়া পুর নিগমে ভোট করানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষেই পুরভোট নিয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারে রাজ্য, এমনটাই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
শুধু কলকাতা বা হাওড়াই নয়, একই সঙ্গে রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও একসঙ্গে ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভা।
প্রশাসনিক স্তরে জোরকদমে তৎপরতা
পুরভোটের এই প্রস্তুতিকে সামনে রেখেই ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, আসন সংরক্ষণ এবং ভোটার তালিকা আপডেট করার মতো জরুরি কাজগুলিতেও চরম গতি আনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর আগেই প্রশাসনিক স্তরের সমস্ত প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে ফেলা হবে। এরপর পুজোর ছুটির রেশ কাটতেই পুরভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ময়দানে নামবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের দাবি, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণ পর্ব মিটিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের ছক কষা হচ্ছে।
অক্টোবরেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন
পুরভোটের এই আবহের ঠিক আগেই, আগামী অক্টোবর মাসে রাজ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে এবং ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। এর জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর।
রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর। গত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটিও বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের ফলেই শূন্য হয়েছে।
সবমিলিয়ে, পুজোর ঠিক আগে অক্টোবরে দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন এবং তারপরেই নভেম্বরের শেষে কলকাতা-হাওড়াসহ একাধিক পুরসভার ভোট—আগামী কয়েক মাস যে বাংলার রাজনীতিতে চরম ব্যস্ততা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাটতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।