‘শালা’ আসলে কোনও গালিই নয়! তবে কীভাবে আত্মীয়তার এই মিষ্টি সম্বোধন বদলে গেল সবচেয়ে জনপ্রিয় গালাগালিতে?

আড্ডার মেজাজে বা রাগের মুহূর্তে মুখে ‘শালা’ শব্দটি আনেন না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। এমনকি বন্ধুদের মধ্যে খোলামেলা আড্ডার অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো এই শব্দ। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, স্ত্রীর ভাইকে যে আদরের ‘শ্যালক’ বা বাংলায় ‘শালা’ বলে ডাকা হয়, সেই আত্মীয়তার মিষ্ট সম্বোধনটি কীভাবে এক্কেবারে জঘন্য গালাগালিতে রূপান্তরিত হলো? এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু প্রাচীন সামাজিক ইতিহাস।

ভাষাতত্ত্ব ও ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ‘শালা’ শব্দের উৎপত্তি মূলত শ্যালক বা স্ত্রীর ভাইয়ের থেকে। কিন্তু এই সম্বোধন কীভাবে কালক্রমে গালাগালের পর্যায়ে পৌঁছে গেল, তার সুনির্দিষ্ট কোনো একটি একক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। তবে সমাজতাত্ত্বিকদের একাংশের মতে, এর পেছনে রয়েছে প্রাচীন সমাজের কিছু সংকীর্ণ মানসিকতা এবং তাচ্ছিল্য করার প্রবণতা।

আগের যুগে মূলত সমাজব্যবস্থায় কনেপক্ষ বা মেয়ের বাড়ির লোকজনকে কিছুটা হীন চোখে বা কম গুরুত্ব দেওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করত। সমাজের সেই পুরুষতান্ত্রিক বা আধিপত্যবাদী মানসিকতার ফলেই কনের বাড়ির আত্মীয়দের নির্দেশ করতে ‘শালা’ বা ‘শালী’ শব্দটিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা শুরু হয়। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা খাটো করার মানসিকতা থেকেই এই সম্বোধনটি ধীরে ধীরে ঠাট্টা-তামাশা ছাড়িয়ে গালাগালের পর্যায়ে চলে যায়।

ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহ্যিক বিচারে এটিকে গালি বলে মনে হলেও আদতে এটি কোনো গালি নয়, এটি ছিল স্রেফ এক অদ্ভুত সামাজিক অভ্যাস। কাউকে নিচু দেখানোর মাধ্যম হিসেবে সমাজই এই সম্বোধনকে গালাগালিতে রূপান্তরিত করে নিয়েছে। তাই কাউকে নিছক এই শব্দে সম্বোধন করলেই যে তাকে আক্ষরিক অর্থে গালি দেওয়া হচ্ছে, তা সবসময় সঠিক নয়।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন অনুলেখা কর। এসংক্রান্ত আরও তথ্য বা লাইফস্টাইল সংক্রান্ত অন্যান্য খবরাখবরের জন্য চোখ রাখুন Asianet News Bangla-র পাতায়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *