নন্দীগ্রামে মমতাকে কেন প্রার্থী চাইছে ঋতব্রত শিবিরও? জেনেনিন নেপথ্যে কোন রহস্য?

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ল দলের একাংশ। একদিকে জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে থাকবে সেই মামলা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক দোরগোড়ায়, আর অন্যদিকে আগামী ৬ অক্টোবর এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল কংগ্রেস অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। এর মাঝেই বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা দাবি তুলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম থেকে ফের প্রার্থী হন, তবে তাঁর না জেতার যন্ত্রণা ও অপূর্ণ স্বপ্নপূরণের জন্য তাঁরা নিজেরাই প্রার্থী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং তাঁকে পূর্ণ সমর্থন করবেন। মদন মিত্র থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা আখরুজ্জামান—সকলেই মমতাকে নন্দীগ্রামে একা লড়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

বিদ্রোহী শিবিরের আসল রাজনৈতিক অঙ্ক কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতাকে প্রার্থী করার এই দাবির পিছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক কৌশল। আসল তৃণমূল কংগ্রেস কে, সেই সংক্রান্ত মামলার ফয়সালা এখনও নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন। যদি প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ না মেটে, তবে এই বিদ্রোহী শিবিরকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়তে হতে পারে। কিন্তু সেই লড়াইয়ে ভরাডুবি হলে দলের নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠবে। অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি এবং প্রধানত হিন্দু ভোটব্যাঙ্কের এই নন্দীগ্রাম আসনে লড়ার জন্য মমতাপন্থী শিবিরেও একরকম প্রার্থীর আকাল দেখা দিয়েছে। গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী পবিত্র করও আর এখানে দাঁড়াতে রাজি নন। ফলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে চাইছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সব মিলিয়ে, জোড়াফুল প্রতীকের আইনি লড়াই এবং ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক সমীকরণ শাসক ও বিরোধী শিবির উভয়কেই নতুন অস্বস্তিতে ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *